আমার হাড় ডুবে যায় জলে ।। মেকদাদ মেঘ

গুচ্ছ কবিতা

আমার হাড় ডুবে যায় জলে ।। মেকদাদ মেঘ

প্রথম ডেস্ক

২৮/০৬/২০২৬ ১২:৪৫:২৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ


মহাময়াকাল


‎মিলনের আত্মজৈবনিক কালে ফুটে জন্মফুল

‎দুটি ছায়া জন্মসনদ ঝুলিয়ে রাখে বৃষ্টিভেজা বৃক্ষে,

‎ঘড়ির ভেতর বেরিয়ে আসে একঝাক রূপালি মাছ,

‎সময় অসময়ে নয়—স্পর্শের জীবাশ্ম বহন করে।

‎তোমার চোখের আয়নায় দেখি গোপন শহর,

‎যেখানে জানালা পাখি হয়ে অন্তহীন স্থানান্তরিত হয়।

যেন চাঁদও রক্তিম ডাকটিকিটের মতো

‎লেগে থাকে রাতের খামে; সেখানে কোনো নাম লেখা নেই,

আছে শুধু দুটি প্রতীকের

‎একে অপরের মধ্যে বিলীন হওয়ার ইতিহাস।

‎মিলন সমাপ্তি নয়,বরং দুটি নিঃসঙ্গ মহাবিশ্বের

‎একই স্বপ্নে নিজেদের পুনর্লিখনের মহাময়াকাল।

‎অন্দরমহল

‎অন্দরমহলে পুরোনো আয়না

‎ধুলোর ভাষায় লিখে যায় বংশপরম্পরার নীরবতা।

‎দেয়ালের ভেতর ঘুমিয়েছে যেনো কয়েকটি দরজা,

‎তাদের কপালে ঝুলে থাকে অব্যবহৃত চাবির চাঁদ।

‎প্রদীপ যেনো নিজের ছায়াকেই সেলাই করে,

‎জানালার ওপারে সন্ধ্যা পরিধান করে শঙ্খের রঙ।

‎অন্দরমহল শুধু কোনো ঘর নয়,স্মৃতির ভূগোল,

‎যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস যেনো অদৃশ্য বংশলতিকার

‎অলিখিত ইতিহাস। 

‎বৃক্ষ ঋষির মতো


‎মানুষ বৃক্ষের মতো নয় বৃক্ষ নয় মানুষের মতো 

‎দেখি বৃক্ষ ঋষির মতো দাঁড়িয়ে থাকে মাঠের প্রান্তে

‎দুঃখ বৃক্ষের মতো ছায়া দেয় জীবনের যাপনখণ্ডে

‎শিকড় তার গোপন শাস্ত্র,পাতা বাতাসের উপনিষদ,

‎পাখি ডালে ঝুলিয়ে রাখে  অপূর্ণ প্রার্থনার ঘণ্টা। 

‎সূর্য ডুবে গেলে তার ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়

স্পর্শ করে বিস্মৃত পথের কপাল,

‎বৃক্ষ ঋষির মতো—কিছু বলে না,

‎যেন অপেক্ষা দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষঋষি 

‎তবু নীরবতার ভেতর অরণ্যের প্রাচীন জ্ঞান

‎ধীরে ধীরে ফল হয়ে পাকে,

‎দেখতে পাই আশ্চর্য চিহ্ন নিয়ে পরোপকারে

‎বৃক্ষ ঋষির মতো আমৃত্যু দাঁড়িয়ে রয়েছে !

বসন্ত হাসে

‎তুমি হাসলে—বসন্ত হাসে

‎শহরের বিলবোর্ডে সবুজের বিজ্ঞাপন জ্বলে ওঠে।

‎পাখি নিজের ছায়াকে ফুল ভেবে ঠোঁট ছোঁয়ায়,

‎আকাশ পুরোনো সংবাদপত্রের মতো মুছে ফেলে

‎যুদ্ধের কালো শিরোনাম।

‎তোমার হাসি—যেন বীজের প্রতীক,যার ভেতর

বসন্ত এখনও ভবিষ্যৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে।

‎মায়ের মতো নদী

‎নদী মায়ের মতো—আঁচলে বাঁধে ভাসমান গ্রহ,

‎কাদামাটির ভিতর ঘুমায় যেনো চাঁদের বীজ,

‎জলের আয়নায় দেখি—নিজে নিজের ছায়াকে জন্ম দিচ্ছে,

যেন সময়ের গর্ভে কোনো প্রার্থনা।

‎দূরবর্তী চরে বাতাসের হাড় থেকে ঝরে নীল ধান,

‎ডুবে যাওয়া কেউ পাখির ভাষায় লিখে উত্তরাধিকার,

বংশতালিকায় ঝুলে স্মৃতির পৃথিবী! 

‎নদী মায়ের মতো—ডাকে না, তবু ফিরিয়ে আনে;

‎তার স্রোতের ভিতর ভাসে যেন হারানো দুধদাঁত।

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন: