গুচ্ছ কবিতা
আমার হাড় ডুবে যায় জলে ।। মেকদাদ মেঘ
মহাময়াকাল
মিলনের আত্মজৈবনিক কালে ফুটে জন্মফুল
দুটি ছায়া জন্মসনদ ঝুলিয়ে রাখে বৃষ্টিভেজা বৃক্ষে,
ঘড়ির ভেতর বেরিয়ে আসে একঝাক রূপালি মাছ,
সময় অসময়ে নয়—স্পর্শের জীবাশ্ম বহন করে।
তোমার চোখের আয়নায় দেখি গোপন শহর,
যেখানে জানালা পাখি হয়ে অন্তহীন স্থানান্তরিত হয়।
যেন চাঁদও রক্তিম ডাকটিকিটের মতো
লেগে থাকে রাতের খামে; সেখানে কোনো নাম লেখা নেই,
আছে শুধু দুটি প্রতীকের
একে অপরের মধ্যে বিলীন হওয়ার ইতিহাস।
মিলন সমাপ্তি নয়,বরং দুটি নিঃসঙ্গ মহাবিশ্বের
একই স্বপ্নে নিজেদের পুনর্লিখনের মহাময়াকাল।
অন্দরমহল
অন্দরমহলে পুরোনো আয়না
ধুলোর ভাষায় লিখে যায় বংশপরম্পরার নীরবতা।
দেয়ালের ভেতর ঘুমিয়েছে যেনো কয়েকটি দরজা,
তাদের কপালে ঝুলে থাকে অব্যবহৃত চাবির চাঁদ।
প্রদীপ যেনো নিজের ছায়াকেই সেলাই করে,
জানালার ওপারে সন্ধ্যা পরিধান করে শঙ্খের রঙ।
অন্দরমহল শুধু কোনো ঘর নয়,স্মৃতির ভূগোল,
যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস যেনো অদৃশ্য বংশলতিকার
অলিখিত ইতিহাস।
বৃক্ষ ঋষির মতো
মানুষ বৃক্ষের মতো নয় বৃক্ষ নয় মানুষের মতো
দেখি বৃক্ষ ঋষির মতো দাঁড়িয়ে থাকে মাঠের প্রান্তে
দুঃখ বৃক্ষের মতো ছায়া দেয় জীবনের যাপনখণ্ডে
শিকড় তার গোপন শাস্ত্র,পাতা বাতাসের উপনিষদ,
পাখি ডালে ঝুলিয়ে রাখে অপূর্ণ প্রার্থনার ঘণ্টা।
সূর্য ডুবে গেলে তার ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
স্পর্শ করে বিস্মৃত পথের কপাল,
বৃক্ষ ঋষির মতো—কিছু বলে না,
যেন অপেক্ষা দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষঋষি
তবু নীরবতার ভেতর অরণ্যের প্রাচীন জ্ঞান
ধীরে ধীরে ফল হয়ে পাকে,
দেখতে পাই আশ্চর্য চিহ্ন নিয়ে পরোপকারে
বৃক্ষ ঋষির মতো আমৃত্যু দাঁড়িয়ে রয়েছে !
বসন্ত হাসে
তুমি হাসলে—বসন্ত হাসে
শহরের বিলবোর্ডে সবুজের বিজ্ঞাপন জ্বলে ওঠে।
পাখি নিজের ছায়াকে ফুল ভেবে ঠোঁট ছোঁয়ায়,
আকাশ পুরোনো সংবাদপত্রের মতো মুছে ফেলে
যুদ্ধের কালো শিরোনাম।
তোমার হাসি—যেন বীজের প্রতীক,যার ভেতর
বসন্ত এখনও ভবিষ্যৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে।
মায়ের মতো নদী
নদী মায়ের মতো—আঁচলে বাঁধে ভাসমান গ্রহ,
কাদামাটির ভিতর ঘুমায় যেনো চাঁদের বীজ,
জলের আয়নায় দেখি—নিজে নিজের ছায়াকে জন্ম দিচ্ছে,
যেন সময়ের গর্ভে কোনো প্রার্থনা।
দূরবর্তী চরে বাতাসের হাড় থেকে ঝরে নীল ধান,
ডুবে যাওয়া কেউ পাখির ভাষায় লিখে উত্তরাধিকার,
বংশতালিকায় ঝুলে স্মৃতির পৃথিবী!
নদী মায়ের মতো—ডাকে না, তবু ফিরিয়ে আনে;
তার স্রোতের ভিতর ভাসে যেন হারানো দুধদাঁত।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: