ফ্রান্সে চরম গরমে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ১০৯ জনের

ফ্রান্সে চরম গরমে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ১০৯ জনের

প্রথম ডেস্ক

২৮/০৬/২০২৬ ০৫:৪৫:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ফ্রান্সজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে রাজধানী প্যারিসে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জরুরি চিকিৎসা সেবার আওতায় ১০৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্থানীয় গণমাধ্যম **ফ্রান্সইনফো** জানিয়েছে, শুক্রবার রোগীদের বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে দায়িত্ব পালনকালে জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মীরা এসব মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করেন। অথচ বছরের একই সময়ে সাধারণত গড়ে মাত্র সাতটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়। তবে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত গরমে হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা এ পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়।


একই ২৪ ঘণ্টায় জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কল আসে। এসব ঘটনার মধ্যে ৩০টি ছিল হৃদ্‌রোগসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি। এছাড়া ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ে হাইপারথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, শুক্রবার প্যারিসের সেইন্ট-মার্টিন খালে নির্ধারিত সময় ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের বাইরে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক ব্যক্তি ডুবে মারা যান বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।


ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে অনুমোদনহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে।


প্যারিস এবং আশপাশের ও-দ্য-সেন, সেইন-সাঁ-দেনি ও ভাল-দ্য-মার্ন অঞ্চলের চারটি জরুরি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে গত এক সপ্তাহে ফোনকলের সংখ্যা ৮০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ এবং আগের দিনের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও তাপপ্রবাহের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা **মেটিও-ফ্রান্স** শনিবারও দেশের ৩৫টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ এবং ৩৪টি অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বহাল রেখেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: