ফের ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান

ফের ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান

প্রথম ডেস্ক

২৮/০৬/২০২৬ ০৭:২৭:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পাকিস্তানে একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। সর্বশেষ দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কোহলু শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে এবং এর গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।


এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) একই এলাকায় পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ধারাবাহিক এ কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কাও বেড়েছে।


শুক্রবারের ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এতে অন্তত তিনজন আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া মুসাখেল জেলার কিংরি এলাকায় প্রায় ৭০টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক।


জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনএসএমসি) তথ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কোহলু থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। এর গভীরতা ছিল ১৭ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কম্পন ঝোব, বারখান ও রাখনি এলাকাতেও অনুভূত হয়।


চলতি মাসের শুরুতে লাহোর ও আশপাশের অঞ্চলেও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেসময় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।


ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের তালিকায় রয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটি একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ইসলামাবাদ, সোয়াত ও হুনজা অঞ্চলে অনুভূত হয়েছিল। আর ২০০৫ সালে আজাদ কাশ্মীরে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ। সেই দুর্যোগে লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোর দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: