ক্ষুব্ধ জুলাই আন্দোলনের কর্মীরা
ছাত্রলীগ নেতার শ্বশুরের বাসায় সারজিস ও নাসির
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর শ্বশুরের বাসায় জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম দুই নেতার এমন সফর নিয়ে খোদ নিজস্ব দলের নেতাকর্মী এবং আন্দোলনের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিক্ষুব্ধ জেলাবাসীর একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন—"রাজনীতি যদি নীতিহীন হয়, তবে সে রাজনীতি কখনো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের (যিনি এলাকায় মাসুক নামে পরিচিত) বাসভবনে যান নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম।
স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাবেক এই কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ মূলত রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর আপন শ্বশুর। শুধু তাই নয়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক এমপি জিল্লুর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবেও এলাকায় মাসুদ আহমদের পরিচিতি রয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির দুই নেতার এমন বিতর্কিত আবহে উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় জুলাই আন্দোলনের কর্মীরা। ঘটনার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদের দোসর ও ছাত্রলীগ নেতার আত্মীয়ের বাসায় এমন গোপন বা সৌজন্য সাক্ষাৎ শহীদদের রক্তের সাথে এক ধরনের আপস। জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে নীতিহীন রাজনীতির অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের এই ঝটিকা সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে কী ছিল—সে বিষয়ে তাঁদের কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে এই সফরটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ছিল নাকি এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এ বিষয়ে এনসিপি নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের স্থানীয় স্টেকহোল্ডার ও সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন। ঘটনার পর থেকে মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক ধরনের থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: