শিশু রিংকন হত্যাকাণ্ড: আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন 

শিশু রিংকন হত্যাকাণ্ড: আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

২১/০৬/২০২৬ ১৯:০৫:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​"ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই! খুনিদের ফাঁসি চাই!"এমন তীব্র ও ক্ষুব্ধ স্লোগানে রোববার উত্তাল হয়ে ওঠে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সড়ক। ২০২৪ সালে সংঘটিত নিষ্পাপ শিশু রিংকন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষুব্ধ মানুষ। দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং বিচার অধরা থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতা।

দুপুর ১২টায় ‘জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি’র ব্যানারে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন হাতে স্বজন হারানোর বেদনায় নীল পরিবার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা এসপি কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

​২০২৪ সালের সেই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও তাড়া করে ফিরছে রিংকনের পরিবারকে। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু পাল্টালেও, পরিবর্তন হয়নি কেবল রিংকনের মায়ের চোখের জলের। মানববন্ধনে উপস্থিত রিংকনের মা বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার নিষ্পাপ সন্তানকে যারা এভাবে কেড়ে নিল, তারা আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? আর কত অপেক্ষা করলে খুনিদের ফাঁসি হবে?

​বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের চোখে ছিল যেমন জল, তেমনই কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ। প্রতিটি স্লোগানে ফুটে উঠেছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বজ্রকঠিন প্রতিবাদ।

​মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বক্তাদের অভিযোগ, ​মামলার মূল আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন তাদের গ্রেফতারে রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। ​পর্দার আড়াল থেকে একটি অপশক্তি তদন্তের গতিপথকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছে। ​দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, রিংকনের হারিয়ে যাওয়া জীবন আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাবে এবং আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুজ্জীবিত করবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: