মাজারের দান বক্সে তালা
‘হিসাব কাকে দিবো? এটি পৈতৃক সম্পত্তি’—খাদিম মুফতি রায়হান
ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শরিফের দান বক্সে তালা লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরগাহের ওপর এমন পদক্ষেপকে ওলি-আউলিয়াদের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন মাজার সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং মাজারের আয়ের হিসাব চাওয়া নিয়ে প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন দরগাহের খাদিম ও সিলেট মহানগর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি মুফতি রায়হান উদ্দিন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর একটি ভিডিও সাক্ষাতকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দরগাহের সম্পত্তি কোনো সরকার বা দলের নয়, এটি খাদিমদের পৈতৃক সম্পত্তি। এতে বাইরের কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
গণমাধ্যমের সামনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুফতি রায়হান উদ্দিন বলেন: আমরা হিসাব কাকে দিবো? কেন দিবো? হযরত শাহজালাল (রহ.) এই সম্পত্তি আমাদের দিয়ে গেছেন। এখানে কেউ নাক গলাতে পারে না। এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি, কোনো দল বা সরকারের নয়।
মাজারের দান বক্সে তালা মারার ঘটনাকে ওলি-আউলিয়াদের প্রতি চরম অসম্মান উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অনেকে মনে করেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মারা গেছেন। আমরা জানি তিনি মারা যান নাই। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, ওলি-আউলিয়ারা কখনো মারা যান না।"
দরগাহের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জবাবে কোনো রকম রাখঢাক না রেখে স্পষ্ট বক্তব্য দেন এই খাদিম। তিনি উল্লেখ করেন, তিলে তিলে এই দরগাহের মসজিদ ও মাদ্রাসা খাদিম পরিবারই গড়ে তুলেছে।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি বলেন-এখন সবাই মনে করতেছে এখানে অনেক কিছু আছে। আমরা খাদিমরা সব টাকা খাই না, তা ঠিক। তবে আমরা যে টাকা খাই, তা সবাই বণ্টন করে নিয়ে যাই। এখানে মিথ্যা বলার কিছু নেই। খাদিমরা যেভাবে টাকা নেয়, সেভাবে এখানে দিন-রাত পরিশ্রম আর কাজও করে। সুতরাং কাকে আমরা হিসাব দিবো?
মুফতি রায়হান উদ্দিনের অভিযোগ, একটি বিশেষ কুচক্রী মহল এই ঐতিহ্যে আঘাত হানার জন্য সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, "একটা কুচক্রী মহল আমাদের পেছনে লেগেছে। এই মহলটি জেলা প্রশাসককে ভুল বুঝিয়ে আমাদের পেছনে লাগিয়ে দিয়েছে।"
তিনি আরও দাবি করেন, এই চক্রটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপি পরিবারকে বিতর্কিত করার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমি মহানগর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি। পাশাপাশি আমি এখানের খাদিম। এটা আমার পৈতৃক সম্পত্তি!"
বক্তব্যের শেষাংশে তীব্র প্রতিবাদের সুর চড়িয়ে খাদিম পরিবারের এই সদস্য বলেন, ৭০০ বছরের এই গৌরবময় ঐতিহ্যে তালা মেরে কেউ একে শেষ করে দিতে পারবে না, খাদিম পরিবার তা কখনোই হতে দেবে না। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংকটের সমাধান করতে প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের সাথে বসে কথা বলতে হবে।"
দরগাহ শরিফের মতো একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থানে প্রশাসনের তালা দেওয়া এবং খাদিমদের এমন অনমনীয় অবস্থানের পর এখন পুরো সিলেট জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তাহির আহমদ/ সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: