বিশ্বম্ভরপুরে পুলিশের অভিযান: ট্রাকভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ গ্রেপ্তার ৫
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় জিরা ও ভুট্টাসহ দুই চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। পৃথক আরেকটি অভিযানে একই থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন ১নং সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন্দ পয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালবন্দ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি সন্দেহভাজন ড্রাম ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ট্রাক থেকে ১ হাজার ১৯০ কেজি অবৈধ ভারতীয় জিরা এবং ৭ হাজার ৯৫০ কেজি ভারতীয় ভুট্টা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ।
চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার নারাইনপুর গ্রামের নান্টু রঞ্জন দাশের ছেলে পিনাক রঞ্জন দাশ (২৬), সুনামগঞ্জ সদর থানার নোয়াগাঁও গ্রামের মোঃ আফিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ তালেবুল ইসলাম (৩০)।
এদিকে পৃথক অভিযানে নন-জিআর (নং-৬/২৬) মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিশ্বম্ভরপুর থানার চান্দেরগাঁও (বর্তমান গন্ডামারা) গ্রামের আব্দুর রহিম (৬৫) এবং তার দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও আক্তার হোসেন (২৪)।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা এবং বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন মিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মনিরুল হক মুন্সী, এসআই ইয়াসিন মিয়া এবং এএসআই (নিঃ) আব্দুর রবসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় পণ্যের একটি বড় চালান আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-১৮/১৪০) রুজু করা হয়েছে। চোরাচালান ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তিনি আরও জানান, চোরাচালান মামলার ২ জন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জনসহ মোট ৫ জন আসামিকেই দুপুরে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রীতম দাস/ তানজুবা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: