আদরের ইজাজুলের ইউরোপ যাত্রা থামলো সাগরে: জগন্নাথপুরে স্বজনদের শোকের মাতম

আদরের ইজাজুলের ইউরোপ যাত্রা থামলো সাগরে: জগন্নাথপুরে স্বজনদের শোকের মাতম

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৩/২০২৬ ১৮:৩২:৫২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (লম্বাহাঁটি) গ্রামের ইজাজুল হক মনির (২৪) ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন এখন পরিবারের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। গত ২২ জানুয়ারি পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে সিলেটের ওরিয়েন্টাল মার্কেটের ব্যবসা গুটিয়ে ১২ লক্ষ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে লিবিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট এই আদরের সন্তান। কিন্তু গত ২১ মার্চ সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ‘গেইমে’ (অবৈধ যাত্রা) ওঠার পর থেকে ইজাজুলের আর কোনো হদিস মিলছে না। লিবিয়ায় থাকাকালীন তার ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতন ও অনাহারের খবর আসার পর থেকে পুরো পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল।

নিখোঁজ ইজাজুলের চাচাতো ভাই রাজেন, যিনি একই বন্দিশালায় ছিলেন, লিবিয়া থেকে জানিয়েছেন যে গেইমে পাঠানোর আগে তাদের ওপর পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালানো হতো। প্রায় এক মাস কোনো খাবার না দিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল। ইজাজুল মাঝেমধ্যে বাড়িতে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তার ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের কথা জানাতেন। ২১ মার্চ শেষবারের মতো গেইমে ওঠার কথা জানিয়ে বার্তা দেওয়ার পর থেকে তার ফোন বন্ধ রয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত দালাল ছাতক উপজেলার শক্তিরগাঁও গ্রামের দুলালের ফোন বন্ধ থাকলেও রোববার সকালে পর্তুগাল থেকে তার ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ইজাজুলের পরিবারকে ফোন করে ‘মানুষ বাড়িতে নিয়ে আসার’ অস্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন, যা পরিবারের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আদরের ভাইকে ফিরে পেতে বোন জুলেফা বেগম আর সন্তানের অপেক্ষায় মা ফিরোজা বেগমের আহাজারিতে লম্বাহাঁটি গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে; প্রশাসনের কাছে তাদের একটাই আকুতি—যেন ইজাজুলকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

এ রহমান

মন্তব্য করুন: