জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

প্রথম ডেস্ক

২৮/০৬/২০২৬ ০৫:২০:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশন। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।


অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। বাজেট দুটি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।


প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যেখানে ঘাটতি রয়েছে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।


অধিবেশনে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কর্মমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।


এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ, মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট (এমএলএলআই)-এর মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা এবং সিলেবাস সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।


পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।


সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়; বরং এমন মানবসম্পদ তৈরি করা, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিতে পারে।


অধিবেশনে সিনেট সদস্যরা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।


জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


অধিবেশনে সিনেট সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরী, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হোসেন খান ও জি এম সিরাজ, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।


অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিভিন্ন বিভাগের কমিশনাররা। অধিবেশনে ৭০ জন সিনেট সদস্য ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা অংশ নেন।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: