সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় চরম নৈরাজ্য

নির্ধারিত সময়ের আগেই উধাও ডাক্তার

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় চরম নৈরাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৪/০৩/২০২৬ ২৩:০৫:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম খামখেয়ালি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে সেবা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক চিকিৎসকই দুপুর গড়ানোর আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন বলে ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১টার দিকে ইনডোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সার্জন ডা. লিপিকা দাস হাসপাতালে অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও তিনি দুপুর ১২টার পরেই হাসপাতাল ত্যাগ করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার ‘আনিসা হেলথকেয়ার’ থেকেও তাঁর অকাল প্রস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ; তিনি নিয়মিত সকাল ১০টার আগে আসেন না এবং দুপুর ১২টার মধ্যেই বাসা চলে যান। বুধবার দুপুর ১টায় তাঁকে মুঠোফোনে কর্মস্থলে না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদকর্মীকে উদ্দেশ্য করে অপেশাদার মন্তব্য করেন এবং বলেন, “আমি দুপুর ২টা পর্যন্ত থাকতে বাধ্য নই, আপনি আমাকে চার্জ করার কে?”

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চিত্র আরও ভয়াবহ; অভিযোগ রয়েছে যে দুপুর ১২টার পর কোনো নতুন রোগী ভর্তি হলে পরের দিন সকাল ১১টার আগে তাঁরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পান না। এছাড়া আউটডোর সার্জন ডা. লোপা রাণী বেলা ১১টার আগে চেম্বারে বসেন না বলে রোগীরা চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অন্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন। জেলা সদরের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রে ডাক্তারদের এমন ‘ইচ্ছেমতো’ আসা-যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধে এবং সেবার মান ফেরাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: