মিসবাউলের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, নারী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

মিসবাউলের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, নারী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ

প্রথম ডেস্ক

২৫/০২/২০২৬ ২১:০৮:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শালা এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোঃ শামীম আহমদ চৌধুরী। আবেদনে তিনি মোঃ মিসবাউল ইসলাম কয়েছ (৪৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ তুলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোঃ মিসবাউল ইসলাম কয়েছের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলোর কিছু বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী নির্যাতন, মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। আবেদনকারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতীতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।


প্রবাসী অভিযোগকারীর দাবি, তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার অনুপস্থিতিতে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। বাড়ির কেয়ারটেকারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগকারীর মা মরহুমা জহুরা জিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর পর বাড়িটি তদারকির অভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।


আবেদনে আরও বলা হয়, আত্মরক্ষার্থে অভিযোগকারীর মা পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় স্থানীয় থানা, মহানগর পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার স্মারক নম্বরসহ তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে, যেগুলোর কিছু মামলা আকারে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মিসবাউল ইসলাম কয়েছের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় এবং তাতে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারাধীন বিষয়গুলো আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।”


এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন।


প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: