সিলেটে অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং

সিলেটে অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৭/০৬/২০২৬ ২২:৪৫:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ


তীব্র গরমে সিলেটজুড়ে হঠাৎ করেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে সমানতালে চলা এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। এমনকি শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও সিলেটে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং হয়েছে। ছুটির দিনেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে জনমনে।


বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সহসা এই পরিস্থিতি উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই সিলেটে লোডশেডিংয়ের এই মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট বিভাগে পিডিবির মোট চাহিদা ছিল ২১০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ১৫৭ মেগাওয়াট। ফলে একযোগে প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই লোডশেডিং সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার কারণে স্থানীয়ভাবে তাদের কিছু করার থাকছে না।


বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট বা কারিগরি কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে সারাদেশেই লোডশেডিং বেড়েছে। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে কলকারখানা ও অফিস বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, কিন্তু এবার শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও সিলেটে তুলনামূলক অনেক বেশি লোডশেডিং হয়েছে। ফলে রোববার থেকে অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে গেলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও পরীক্ষার্থীরা গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়াসহ ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসাবাণিজ্য ও বাসা-বাড়ির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক।

তাহির আহমদ/ সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: