সীমান্তে মধ্যনগর থানার ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ

সীমান্তে মধ্যনগর থানার ওসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি. মধ্যনগর

১৭/০১/২০২৬ ২০:১৩:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে থানার কথিত লাইনম্যান সালমান মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হওয়া বিভিন্ন পণ্য থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করে আসছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মধ্যনগর থানার ওসি মো. একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীনের নিয়োজিত লাইনম্যান পরিচয়ে বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের দাতিদিয়াপাড়া গ্রামের রওশন আলীর ছেলে সালমান মিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে—ভারত থেকে আসা প্রতিটি গরু থেকে ৪০০ টাকা এবং মহিষ থেকে ৭০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। পাশাপাশি চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের প্রতিটি বস্তার জন্যও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা, কড়ইবাড়ি, মাটিয়ারবন্দ, গঙ্গানগর ও মহিষখলা সীমান্ত দিয়ে গরু, মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য আসা–যাওয়ার ক্ষেত্রে সালমান মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালামাল আটক কিংবা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক চোরাকারবারি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চোরাকারবারি জানান, ওসি সাহেবের নাম ব্যবহার করে সালমান মিয়া নিয়মিত চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে মাল জব্দ কিংবা মামলার হুমকি দেওয়া হয়, ফলে বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মধ্যনগর থানার কথিত লাইনম্যান সালমান মিয়া বলেন, “আমি থানা পুলিশের নামে টাকা তুলি।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে মধ্যনগর থানার ওসি মো. একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীনের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, “সুনামগঞ্জে চোরাচালানের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। যদি কোনো পুলিশ সদস্য বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন: