ছাতকে আকিজ কারখানায় ভিতরে শ্রমিকের মৃত্যু

সাড়ে ৫ লাখ টাকায় দফা-রফা!

ছাতকে আকিজ কারখানায় ভিতরে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২৯/০৬/২০২৬ ২২:৪০:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতকে আকিজ ফ্যাক্টরি লিমিটেডে ড্রেন ও ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় সিরাজ মিয়া (৪০) নামের এক পরিচ্ছন্নতা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কারখানার ভেতরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহত সিরাজ মিয়া উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গদারমহল গ্রামের সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারকে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই তড়িঘড়ি করে এই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় পরিচ্ছন্নতা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সোমবার দুপুরে সিরাজ মিয়াসহ তিনজন শ্রমিককে কারখানার ড্রেন ও ট্যাংক পরিষ্কারের কাজে নামানো হয়। একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় কারখানার অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সিরাজ মিয়াকে কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাপে জোরপূর্বক ওই বিষাক্ত ড্রেন ও ট্যাংক পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করার সময় দুজন ওপরে উঠে এলেও সিরাজ মিয়া হঠাৎ ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।


জানতে চাইলে আকিজ ফ্যাক্টরির প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বাধীন দাস বলেন, "সিরাজ মিয়া পরিচ্ছন্নতা শাখায় কর্মরত ছিলেন। এটি একটি দুর্ঘটনা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"


ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোরসালিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সুজন তালুকদার/ তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: