অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান

প্রথম ডেস্ক

৩০/০৬/২০২৬ ১৯:৫৫:৫২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে জাতীয় সংসদ। নতুন জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬** অনুযায়ী, অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনে মোট ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।


মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিরোধী দলের জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর একইভাবে বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে প্রায় দেড় শতাব্দী পুরোনো **দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭** বাতিল করে নতুন আইন কার্যকরের পথ সুগম হলো।


নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।


এ ছাড়া অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অনলাইন বেটিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।


ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকেও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


আইনটিতে অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়ার স্থান, জুয়ার সরঞ্জাম, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট ও টোটালাইজেটরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।


বিলের ওপর আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, অনলাইন জুয়ার লোভনীয় প্রচারণায় কিশোর-শিশুরাও আকৃষ্ট হচ্ছে এবং অনেকেই পরিবারের অর্থ অপচয় করছে। তাই তিনি আইনটিকে আরও কঠোর করার আহ্বান জানান।


রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিলের উদ্দেশ্যকে সমর্থন জানালেও কয়েকটি ধারার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আদালতের অনুমতি ছাড়া তল্লাশি, জব্দ, জুয়ার স্থান সিলগালা এবং ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন ও আইপি ঠিকানা ব্লক করার ক্ষমতা নাগরিক অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেভাবে রাজনৈতিক বিরোধী মত দমনে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, তেমন আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জুয়ার বড় অংশই সাইবার স্পেস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত হয়। আদালতের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের আলামত দ্রুত সরিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইনেও পুলিশের তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রয়েছে এবং এই আইনেও সেই নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।


জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানও পুলিশের জব্দ করার ক্ষমতা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তার মতে, আদালতের অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই জব্দের পর দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নেওয়ার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেন তিনি।


বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আইনটির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিরোধী দল একমত এবং তারা বিলটিকে সমর্থন করেছে। তবে বিরোধী দলের প্রস্তাবিত কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হলে আইনটি আরও কার্যকর হতো। একই সঙ্গে তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয় এবং নাগরিক ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: