বৃষ্টিতেও কমেনি গরমের দাপট, বাড়ছে ভ্যাপসা অস্বস্তি

বৃষ্টিতেও কমেনি গরমের দাপট, বাড়ছে ভ্যাপসা অস্বস্তি

প্রথম ডেস্ক

৩০/০৬/২০২৬ ২৩:০৩:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কমেনি। বরং অনেক এলাকায় তাপমাত্রার তুলনায় আরও বেশি গরম অনুভূত হওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।


আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলেই সৃষ্টি হচ্ছে ভ্যাপসা গরম ও ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকর পরিবেশ। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় বৃষ্টিও উষ্ণ থাকছে। তবে আগামী ৩ জুলাই থেকে সম্ভাব্য একটি লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমার আশা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর আরেকটি অংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র এর অবস্থা মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।


এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও মঙ্গলবার আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।


বৃষ্টিপাতের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। সোমবার নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এ সময় ঢাকায় রেকর্ড হয়েছে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।


তীব্র ভ্যাপসা গরমের কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, প্রকৃতির ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষ্য, টানা বৃষ্টিপাত না হলে এই ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি মিলবে না। বর্তমানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা অনেকটাই উষ্ণ। কারণ মেঘমালা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থান করায় বৃষ্টিও তেমন শীতলতা আনতে পারছে না। পাশাপাশি এ সময় সূর্যের তাপ প্রায় খাড়াভাবে পৃথিবীতে পৌঁছায় এবং দিনের দৈর্ঘ্যও বেশি থাকায় তাপমাত্রা সহজে কমছে না। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক ডিগ্রি বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার উপকূলের কাছাকাছি একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে শুক্রবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরমের তীব্রতা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে লঘুচাপটি উপকূলের খুব কাছে সৃষ্টি হওয়ায় এটি দুর্বল অবস্থাতেই স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। তাই অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।


এদিকে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিংও। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণ এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হলেও জুন ও জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি এবং তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাহির আহমদ/ সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: