সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

টানা ১০ দিন আন্দোলনের পর

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০১/০৭/২০২৬ ১৬:০৯:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


​বুধবার (০১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।


​স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হলেও আজ পর্যন্ত হাসপাতাল ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের তীব্র সংকট থাকায় নিয়মিত পাঠদান, ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


​আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেল শিক্ষার অন্যতম অপরিহার্য অংশ হলো হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষা। বর্তমানে কলেজে ছয়টি ব্যাচের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও হাসপাতাল চালু না থাকায় তারা রোগীদের সংস্পর্শে গিয়ে সরাসরি কাজ শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে দক্ষ ও মানসম্পন্ন চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের কারণে একাডেমিক ক্লাস, ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।


​শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বস্ত করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ টানা ১০ দিন ধরে ক্যাম্পাস ও আশপাশে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানানো হয়নি। যার ফলে তারা আজ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।


​স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা তাদের দুই দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। ​শিক্ষার্থীরা বলেন, হাসপাতালটি চালু না থাকায় শুধু যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নয়, বরং দেশের অন্যতম অবহেলিত ও দুর্গম হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষও আধুনিক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি দ্রুত চালু হলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করতে পারবেন, অন্যদিকে জেলার লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজলভ্য হবে।


​স্মারকলিপি প্রদান শেষে কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াস চন্দ্র দাস গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য দ্রুত হাসপাতাল চালু, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হাওরাঞ্চলের অসহায় মানুষ যেন ঘরের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পান, সেটিও আমাদের মূল দাবি। আমরা আশা করছি, সরকার আর বিলম্ব না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


​স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব, চতুর্থ বর্ষের শাহপরান ভুইয়া, তৃতীয় বর্ষের মোহাম্মদ এহসান, দ্বিতীয় বর্ষের মোহাম্মদ নিরব ও ইমতিয়াজ আহমেদ এবং প্রথম বর্ষের ইয়াসির শাফিন ও প্রিতম রাজবংশীসহ কলেজের সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

প্রীতম দাস/ তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad