সিলেটে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব, ২০ হাজার ভক্তের সমাগম
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটে উদযাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা মহোৎসব। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেট মন্দিরে আয়োজিত এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ২০ হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থী অংশ নেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর মহাস্নান, পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো ভক্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে স্নানযাত্রায় অংশ নেন।
ইসকন সিলেট মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দেবামৃত নিতাই দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, "ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।"
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সম্প্রীতির চর্চা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে।
ইসকন সিলেট এর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন — ধর্মের মূল শিক্ষা হলো মানবসেবা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা মানুষকে ভক্তি, সেবা, মানবকল্যাণ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুণা দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন ইয়ুথ ফোরামের সমন্বয়ক দেবর্ষি শ্রীবাস দাস ব্রহ্মচারীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
দিনব্যাপী কীর্তন, বৈদিক আচার, মহাস্নান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়। আয়োজকেরা জানান, বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উত্তম কাব্য / সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: