কাজ বন্ধ করলেন এলাকাবাসী
শ্রীমঙ্গলে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
শ্রীমঙ্গলে দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গার্ড ওয়াল নির্মাণে ৩ নম্বর ইটের খোয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সিমেন্ট ও রডের ব্যবহার করায় স্থানে স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রশ্ন উঠেছে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজের দুই পাশে বালু ও অতি সামান্য সিমেন্ট মিশ্রিত বস্তা ব্যবহার করে গাইড ওয়াল তৈরির মতো লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে, যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়া, পুরনো পিলার মেরামত করেই নতুন কাজের দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন রবিবার (২৮ জুন) সড়কের চলমান আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমলগঞ্জের 'মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজ' সরকারি শিডিউল উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে নিম্নমানের উপকরণ: উন্নতমানের ভিটি বালু, পাথর ও খোয়ার পরিবর্তে মাটি মিশ্রিত বালু, নিম্নমানের ও পুরোনো ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, ঢালাই কাজে পর্যাপ্ত রড ও সিমেন্টের ব্যবহার না করে নামমাত্র কাজ করা হচ্ছে। একইভাবে গাইডওয়ালের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গভীরতায় খনন না করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি মাটি খুড়েই দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।
সড়ক নির্মাণে যথাযথভাবে রোলার বা ভাইব্রেটর ব্যবহার না করায় ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তদারকির অভাব ও কার্যকর মনিটরিং না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর এই সড়ক সংস্কারের খবরে এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।
প্রকল্পের পটভূমি জানা গেছে, হোসনাবাদ-বিলাসছড়া সড়কটি এই এলাকার সাতটি চা-বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের প্রধান পথ। দীর্ঘদিনের দুর্দশার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে এলজিইডি এই সংস্কার প্রকল্পটি হাতে নেয়। প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এবং কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত।
এ বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন
সজল আহমদ/ তানজুবা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: