স্বর্ণ বিক্রিতে জালিয়াতি: মৌলভীবাজারে রতন জুয়েলার্সকে জরিমানা
স্বর্ণ কেনার সময় ক্রেতাকে বলা হয়েছিল অলংকারটি শতভাগ খাঁটি ২২ ক্যারেটের। কিন্তু বিপদে পড়ে সেই একই দোকানে অলংকারটি বিক্রি করতে গিয়েই বিপত্তিতে পড়েন ক্রেতা। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, স্বর্ণটি ২২ ক্যারেটের নয়, বরং ২০ বা ২১ ক্যারেটের। নিজের বিক্রি করা স্বর্ণ নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে এমন অভিনব প্রতারণার দায়ে মৌলভীবাজারের এক জুয়েলার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ রোববার (২৮ জুন) মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কের ‘রতন জুয়েলার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আলী কিছুদিন আগে রতন জুয়েলার্স থেকে ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের অলংকার কিনেছিলেন। সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে তিনি অলংকারগুলো বিক্রি করতে আবার ওই দোকানেই যান। কিন্তু রতন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ তখন আব্দুল আলীকে জানায়, স্বর্ণের মান কম এবং তারা ২২ ক্যারেটের চেয়ে কম দাম দেবে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, যে স্বর্ণ ২২ ক্যারেট বলে বিক্রি করা হয়েছিল, তা আসলে ২০ ও ২১ ক্যারেটের।
জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান — স্বর্ণের মতো মূল্যবান জিনিস কেনার সময় ক্রেতাদের পাকা রসিদ ও হলমার্ক যাচাই করে নেওয়া উচিত। কোনো বিক্রেতা প্রতারণা করলে চুপ না থেকে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জানালে আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
একই দোকান থেকে কেনা স্বর্ণে এমন জালিয়াতি দেখে আব্দুল আলী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তৃতীয় শুনানি শেষে রতন জুয়েলার্সকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন।
জরিমানার পাশাপাশি অধিদপ্তর থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী আব্দুল আলীর অলংকারগুলো ২২ ক্যারেটের দামেই রতন জুয়েলার্সকে কিনে নিতে হবে।
পরে আইন অনুযায়ী জরিমানার ৫০ হাজার টাকার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১২ হাজার ৫০০ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারী আব্দুল আলীকে প্রদান করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জানায়, কোনো বিক্রেতা পণ্য বা সেবা নিয়ে প্রতারণা করলে ভোক্তাদের চুপ না থেকে সচেতন হওয়া এবং অভিযোগ করা উচিত। এতে করে একদিকে যেমন নিজেদের অধিকার রক্ষা হয়, অন্যদিকে বাজারে সততা বজায় থাকে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: