শাহজালাল মাজার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ফাহিম আল চৌধুরীর
আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের প্রাণকেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজারের বিপুল অর্থ একটি শক্তিশালী ও অদৃশ্য ‘মাফিয়া চক্রের’ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ফাহিম আল চৌধুরী। সম্প্রতি সিলেটের সচেতন মহল ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আলোচনায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো ভক্ত-আশেকানের দান-অনুদানে মাজারের ফান্ডে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা জমা হয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, মাজারের টাকা কেবল পরিচালনা কমিটির হাতেই থাকে। কিন্তু নেপথ্যের সত্যটি তুলে ধরে ফাহিম আল চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আপনারা এটা মনে করবেন না যে এগুলো শুধু মাজার কর্তৃপক্ষের হাতে নিয়ন্ত্রিত। এগুলোর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়ে থাকা বড় মাফিয়া জড়িয়ে আছে।"
ফাহিম আল চৌধুরীর আলোচনা থেকে জানা যায়, শাহজালাল (রঃ)-এর মাজারে আসা দান-অনুদান এবং সিন্দুকের টাকা সঠিকভাবে গণনা করা এবং এর স্বচ্ছ হিসাব রাখা এখন সময়ের দাবি। এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোন ব্যাংকে জমা হচ্ছে, কীভাবে ট্রানজেকশন হচ্ছে এবং কার স্বার্থে খরচ হচ্ছে—তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই তহবিলের পূর্ণাঙ্গ অডিট করা এবং মাফিয়াদের হাত থেকে এই অর্থ উদ্ধার করে জনগণের কল্যাণে আনা জরুরি বলে তিনি স্পষ্ট দাবি জানান।
প্রতিবেদনে রাজনীতির সাথে মাজারের টাকার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখনই দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদল ঘটে, তখনই মাজারকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে মাজারের টাকা লুটের জন্য হাজির হয় নতুন নতুন নেতৃত্ব। বর্তমান মাজার এলাকাটি সিলেট মেট্রোপলিটনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এর পূর্ববর্তী জবাবদিহিতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
আলোচনায় সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি)-কে একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেন ফাহিম আল চৌধুরী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র নিজের স্বার্থ এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে যখনই কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রশাসন তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। বিদায়ী ডিসি-র কিছু সাহসী পদক্ষেপ সিলেটের মানুষের জন্য ‘মাইলফলক’ হিসেবে কাজ করেছে।
তার মতে, সিলেটে যে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) দায়িত্ব নিয়ে আসছেন, তার সামনে মাজারের মাফিয়া চক্র দমন করাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুধু শাহজালাল (রঃ)-এর মাজারই নয়, সিলেটের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের জঞ্জাল সাফ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ৩টি মূল দাবি উত্থাপন করেন। দাবি তিনটি হলো-হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারের টাকার উৎস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সরকারি পরিবহন খাতের অনিয়ম, রুট দখল ও ভেতরের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা। সিলেট পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দালাল রাজত্বের অবসান ঘটানো।
হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর পবিত্র মাজারকে পুঁজি করে যারা কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালাচ্ছে, সেই মাফিয়া চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। বিদায়ী প্রশাসনের তৈরি করা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন জেলা প্রশাসক কি পারবেন এই ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং সরকারি সেবা খাতগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে? সিলেটের সাধারণ মানুষ এখন সেই প্রত্যাশাতেই দিন গুনছে।
সজল / তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: