নেওয়া হচ্ছে আইনি অ্যাকশন
সিউক চেয়ারম্যান কয়েস লোদীকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য ও ন্যাক্কারজনকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকের একাধিক আইডি ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে এই চরম হুমকি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এই সাইবার অপরাধ ও ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েস লোদী।
তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ফেসবুকে কতিপয় ফেক ও বেনামী আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এখন তা রূপ নিয়েছে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিতে। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে বারবার এভাবে টার্গেট করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে হুমকিদাতা সবগুলো আইডির লিঙ্ক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই জঘন্য সাইবার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা ঝোলানো এবং বিতর্কিত ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই কয়েস লোদীর ওপর এই সাইবার হামলা ও হুমকির সূত্রপাত।
মাজারের দানবাক্স জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করার পর এক সাহসী ও যৌক্তিক প্রতিক্রিয়ায় সিউক চেয়ারম্যান বলেছিলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে আমি পূর্ণ সমর্থন করি। এ ব্যাপারে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে যে অপমানজনক প্রক্রিয়ায় কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। মাজার কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে সম্মানজনক উপায়ে কাজটি করা যেত। আমি নিজে ডিসি হলেও মাজার কমিটিকে আস্থায় নিয়েই এই পদক্ষেপ নিতাম।
গণমাধ্যমে তার এই বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল মন্তব্য প্রকাশের পর থেকেই একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক সমালোচনা শুরু করে, যা পরবর্তীতে সরাসরি 'হত্যার হুমকি'র পর্যায়ে পৌঁছায়।
এ প্রসঙ্গে কয়েস লোদী তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "ডিসি নিয়োগ বা বদলি সম্পূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার, এখানে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। আর মাজার ইস্যুতে আমি এমন কী অপরাধের কথা বলেছি? আমি কেবল একটি মার্জিত ও সম্মানজনক প্রক্রিয়ার কথা বলেছি। তাহলে কেন বারবার আমাকেই টার্গেট করে এই নোংরামি করা হচ্ছে?
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসএমপির বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুর রহমান আজ সন্ধ্যা ৮টা ৫ মিনিটে জানান, আমরা এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই এই সাইবার অপরাধীদের আইডেন্টিফাই করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোদ্দুর রিফাত/ তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: