ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কে উত্তেজনা
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।
শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় তাজানি জানান, ট্রাম্পের মন্তব্যকে তিনি অপমানজনক মনে করেন। তার আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। একই সময়ে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন ফোরামেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে ট্রাম্পের এক মন্তব্য থেকে। ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং সহানুভূতি থেকেই তিনি সেই অনুরোধে সাড়া দেন।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেলোনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাকে বিস্মিত করেছে।
মেলোনির ভাষ্য, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমি জানি না কেন তিনি নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়।”
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ট্রাম্প যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর নেতাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইতালি কিংবা আমি কখনো কারও কাছে মিনতি করি না।”
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রমেই দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদিও চলতি সপ্তাহের জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কিছু ইঙ্গিত মিলেছিল, নতুন এই বাকযুদ্ধ সেই সম্ভাবনাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে অবস্থানগত পার্থক্য তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ইতালির অনাগ্রহ এবং এ বিষয়ে মেলোনির অবস্থান ট্রাম্পের অসন্তোষের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ইউরোপে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি। কঠোর অভিবাসন নীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আদর্শগত মিল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিরোধ সেই সম্পর্কের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে তুলেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: