আবারও বাড়ল হামে মৃত্যু, উদ্বেগে স্বাস্থ্যখাত
দেশে হামের প্রকোপ থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৮৭ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮০৭ জন সন্দেহজনক এবং ৮০ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত ৯৮ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৩৮ জনে। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৭৭ জনের।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৬ জন ঢাকা বিভাগের এবং ১ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৪৯ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯০২ জন, আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৯৭০ জন।
মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গে মারা গেছে আরও ৫৮৪ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ের মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবেও এগিয়ে রয়েছে ঢাকা। এ সময়ে সন্দেহজনক আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৩২৬ জন রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫১ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে এখন পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৫৭ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম বা উপসর্গে ২৪৭ জন মারা গেছে।
ঢাকার পর রাজশাহী বিভাগে নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেটে ৩ জন নিশ্চিতসহ ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন নিশ্চিতসহ ৫৯ জন, বরিশালে ১৯ জন নিশ্চিতসহ ৫৮ জন, ময়মনসিংহে ২ জন নিশ্চিতসহ ৫৫ জন, খুলনায় হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: