চর্চার অভাবে বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা

চর্চার অভাবে বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২১/০২/২০২৬ ১৬:১২:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও নিয়মিত চর্চার অভাবে খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের ভাষাগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার আদিবাসী পল্লীগুলোতে প্রবীণরা নিজস্ব ভাষায় কথা বললেও নতুন প্রজন্ম দিন দিন বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজির প্রভাবে মাতৃভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কোনো ভাষা চর্চা কেন্দ্র বা পাঠ্যপুস্তক না থাকায় শিশুরা বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণভাবে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক আদিবাসী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, জনসম্মুখে নিজেদের ভাষায় কথা বললে প্রায়ই উপহাস ও কটূক্তির শিকার হতে হয়, যা তাঁদের ভাষা ব্যবহারে অনীহা তৈরি করছে।

আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরিবারকেন্দ্রিক সীমিত ব্যবহারের বাইরে এই ভাষাগুলো রক্ষার আর কোনো উপায় নেই।

তাহিরপুর উপজেলার আদিবাসী নেত্রী ডনবকমন নংউড়া বলেন, বয়োজ্যেষ্ঠরা মারা যাওয়ার সাথে সাথে ভাষার অনেক মৌলিক শব্দ চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রো সলোমার এই পরিস্থিতি উত্তরণে পাঠ্যপুস্তকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রতিটি এলাকায় ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সুনামগঞ্জের এই বৈচিত্র্যময় ও প্রাচীন ভাষাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন: