সুনামগঞ্জে ছয় দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ অভিযান

সুনামগঞ্জে ছয় দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/১২/২০২৫ ২৩:৫৬:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানে গত ছয় দিনে সুনামগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৬ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–১’-এর সময় সংগঠনটির পদধারী অনেক নেতা–কর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ দেশও ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অনেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে শনিবার রাত থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু হলে যারা ফিরেছিলেন, তারাও আবার গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

এলাকায় অবস্থানরতদের মধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শাল্লা উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের কাফেলায় যুক্ত হয়েও অনেকের বাড়িতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করছে।”

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক শুভ বণিক, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল, জগন্নাথপুরের চিলাউড়া–হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম তাজ, ছাত্রলীগ নেতা কামিল আহমদ ও সায়েম আহমদ।

এছাড়া জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস আলী, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি গাউছেল আজম, ফেনারবাক ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য মঞ্জু হাসান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য চয়ন রায়, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আল আমিন, মধ্যনগর উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি সজলু তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আজাদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েল, সরমঙ্গল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দেব নাথ, দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাহদীব হোসেন উজ্জ্বল, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব, উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কাদের পাশা, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আবুল কাশেম এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ছাতক উপজেলা যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ মিয়া, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের ছাতক উপজেলা শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. জুনেদ হাসান, যুবলীগ নেতা মো. আমিনুল হক, ভাতগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. উরুন মিয়া, উপজেলা ওলামা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাদান আহমদ দুদু মিয়া এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সবুজ মিয়াসহ মোট ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শাল্লা উপজেলার আরেক জনপ্রতিনিধি বলেন, “সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরাও এখন ঘরে থাকতে পারছেন না। কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সমর্থকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ছয় দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের মোট ৪৬ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন: