এখনো গঠন হয়নি ৪ শতাধিক পিআইসি
সুনামগঞ্জে নিয়মরক্ষার উদ্বোধনে শুরু ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলার ছোট-বড় ৪২টি হাওরের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সার্ভে ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে বিলম্বের কারণে এবারও নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা। এতে আগাম পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৪২টি হাওরের মোট ১ হাজার ১১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সার্ভে করে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০৩ কোটি টাকা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৫ শতাধিক পিআইসি গঠনের কথা থাকলেও এখনো চার শতাধিক পিআইসি গঠন হয়নি।
নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। সরকারি ডেটলাইন দেখাতে মঙ্গলবার প্রতিটি উপজেলায় মাত্র একটি করে পিআইসি’র মাধ্যমে বাঁধের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ফলে এটিকে ‘নিয়মরক্ষার উদ্বোধন’ হিসেবে অভিহিত করছেন হাওর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সার্ভে থেকে শুরু করে প্রকল্প অনুমোদন ও পিআইসি গঠনে প্রতি বছরই একই ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও গত ৫ নভেম্বর থেকে বাঁধের সার্ভে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তবে পানি বিলম্বে নামছে—এই অজুহাতে প্রি-ওয়ার্ক (সার্ভে) শেষ করতে দেরি হয়। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও পিআইসি গঠনেও বিলম্ব ঘটে।
জেলায় চলতি বছর হাওর এলাকায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ফসল রক্ষার প্রধান ভরসা বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ কৃষক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন,“হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের সার্ভে, প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদনে প্রতি বছরই নানা অনিয়ম হয়। যত্রতত্র প্রকল্প নেওয়ায় সময় নষ্ট হয়, ফলে কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায় না। এবারও ডেটলাইনে লোক দেখানো উদ্বোধন করা হয়েছে। দ্রুত সব পিআইসি গঠন করে কাজ শুরু না করলে মার্চ মাসের আগে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এতে আগাম পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”
হাওর আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব হলে পাহাড়ি ঢলের প্রথম আঘাতেই হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।
এ বিষয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন,“পানি বিলম্বে নামার কারণে সার্ভে ও বাঁধের কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় বাঁধের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ১০০টি পিআইসি গঠন করে কাজ শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: