দোয়ারাবাজারে সীমান্তের ওপারে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ, সন্দেহভাজন আটক

দোয়ারাবাজারে সীমান্তের ওপারে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

১৬/১২/২০২৫ ১৭:০৭:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ (৪৫)-এর মৃতদেহ ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে মেঘালয়ের কালারটেক বস্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আব্দুল আহাদ নরসিংপুর ইউনিয়নের রগারপাড় গ্রামের মৃত আফতর আলীর পুত্র।

পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। নিহতের বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম (ফারুক) জানান, তাঁর ছোট ভাই রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, তবে রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, সীমান্তের ওপারে ধস্তাধস্তির সময় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আহাদ মিয়া নরসিংপুর বাজার ইজারা, চেলা নদীর বালুমহাল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই তাকে হত্যার শিকার করা হয়েছে বলে পরিবার মনে করছে। নিহতের লাশের পাশে একটি পায়ের জুতা ও একটি গ্যাসলাইট উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর, স্থানীয়রা নজরুল ইসলাম (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে দোয়ারাবাজার থানায় সোপর্দ করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। দোয়ারাবাজার থানার নবাগত ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, লাশ এখনও বিএসএফের কাছে ময়নাতদন্তের জন্য রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর হত্যার প্রকৃত কারণ ও ধরন নিশ্চিত করা যাবে।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। মৃতের পুত্রসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। নিহতের মা নেওয়ারুন নেছার কান্না থামছে না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি দোয়ারাবাজার উপজেলায় দীর্ঘদিনের সবচেয়ে নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

এদিকে, সীমান্তের ওপারে লাশ পাওয়া যাওয়ায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন: