সরকারি অনুদান ছাড়ে বিলম্ব

বিপাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাতারা

সরকারি অনুদান ছাড়ে বিলম্ব

প্রথম ডেস্ক

২২/০৬/২০২৬ ১৮:৪৬:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত একাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাণকাজ অর্থ সংকট ও অনুদানের অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে থমকে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের দাবি, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় অনেক চলচ্চিত্রের শুটিং বন্ধ হয়ে গেছে; নতুন কাজ শুরুর পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


অনুদান পাওয়া নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান ঘোষণার পর গত বছরের জুলাইয়ে অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সেপ্টেম্বরে প্রথম কিস্তি হিসেবে মোট অনুদানের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।


পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান পাওয়া নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল গণমাধ্যমকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, প্রথম কিস্তির অর্থ পাওয়ার পর চিত্রনাট্য, শুটিং পরিকল্পনা এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র যথাযথভাবে জমা দেওয়া হলেও দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ শতাংশ অর্থ এখনো ছাড় করা হয়নি।


তিনি আরও জানান, গত ডিসেম্বরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ‘চলচ্চিত্র বাছাই ও তত্ত্বাবধান’ কমিটির কাছে নির্মাতারা তাঁদের শুটিং পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সে সময় দ্রুত অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।


নির্মাতাদের অভিযোগ, অর্থ ছাড়ে এই অনিশ্চয়তার কারণে একাধিক চলচ্চিত্রের শুটিং মাঝপথে থেমে গেছে। নতুন শুটিং শুরুর ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারদের জন্য নির্ধারিত প্রণোদনার অর্থও এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


এ প্রসঙ্গে গোলাম সোহরাব দোদুল বলেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও অর্থ ছাড় না পাওয়ায় নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কারণে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হলে তা নির্মাতাদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এদিকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।


গত বছরের অনুদান কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আগের সদস্যদের নিয়েই বহাল থাকবে, নাকি নতুন করে পুনর্গঠন করা হবে— সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তথ্য মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুদান কমিটির একজন সদস্য জানান, ফেব্রুয়ারির পর দুটি সভার নোটিশ দেওয়া হলেও সভার আগের দিন সেগুলো স্থগিত করা হয়। এরপর অনুদান-সংক্রান্ত আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, বিএনপিপন্থি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা ছিল। এমনকি মন্ত্রণালয়ে কারা থাকবেন, তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ না করে গোপন রাখার বিষয়েও কথা শোনা গেছে। তবে পর্যাপ্ত উপযুক্ত ও বিশ্বস্ত সদস্য না পাওয়ায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা। এর ফলে পাণ্ডুলিপি বাছাই কমিটি, অনুদান কমিটিসহ চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কোনো কমিটিই এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। ফলে অনুদান-সংক্রান্ত জটিলতাও কাটছে না।


মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দ্রুত এই জটিলতার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম। এমন পরিস্থিতিতে অনুদানপ্রাপ্ত নির্মাতারা দ্রুত বকেয়া অর্থ ছাড় এবং প্রশাসনিক জটিলতার নিরসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আটকে থাকা চলচ্চিত্রগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করা যায়।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: