তাহিরপুরে ভেসে গেল শিকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত

তাহিরপুরে ভেসে গেল শিকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২২/০৬/২০২৬ ১৭:১৫:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ ও সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জেলার তাহিরপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়দল পুরানহাটি গ্রামে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে খালের পাড়সহ একটি বসতঘর ধসে পড়েছে। এ সময় ঘরের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা থাকা রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ঢলের তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। 


সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বড়দল পুরানহাটি এলাকার ‘মাঝের খাল’ নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রুবেল মিয়া স্থানীয় বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চললেও এখনও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।


​স্থানীয় বাসিন্দা ও নিখোঁজের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। মাঝেমধ্যেই তিনি পরিবারের অজান্তে বাইরে চলে যেতেন বিধায়, তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতেন।


​আজ সোমবার সকালে মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। স্রোতের তীব্রতায় খালের পাড়ে থাকা বশিরুল হকের বসতভিটায় আকস্মিক ভাঙন দেখা দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি খালের পানিতে ধসে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত বাইরে বের হয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও, খুঁটির সাথে বাঁধা থাকায় রুবেল মিয়া ঘর থেকে বের হতে পারেননি। চোখের পলকে ঘরের কাঠামোর সঙ্গেই তিনি খালের প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।


​দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় উৎসুক জনতা ও এলাকাবাসী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তাহিরপুর থানা পুলিশ।


​তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম প্রথম সিলেটেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে।


​এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও সীমান্ত অঞ্চলের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাইসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ায় প্রধান নদীগুলোর পানি ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে।


​সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার বিস্তীর্ণ হাওরগুলোতে এখনও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি জমে না থাকায়, নদীর অতিরিক্ত পানি বিভিন্ন সংযোগ খাল দিয়ে প্রবল বেগে হাওরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে খালের আশপাশের তীরবর্তী ও নিচু এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি তীব্র ভাঙন ও আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বড়দলের এই দুর্ঘটনা খালের পাড়ের দুর্বল প্রতিরক্ষা ও আকস্মিক ঢলের তীব্রতারই ফল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রীতম দাস / রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad