আগাম বন্যার শঙ্কা
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের পাকা ধান
সুনামগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আগেই তলিয়ে যেতে শুরু করেছে হাওরের পাকা বোরো ধান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির শঙ্কা থাকায় জেলায় আগাম বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে নদ-নদীসহ হাওরের পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
গত দুই দিনের বৃষ্টিতে সদর উপজেলার দেখার হাওর, খরচার হাওর, জামালগঞ্জের হালীর হাওর, পাগনার হাওর, দিরাই-শাল্লার কালীয়াকোটা ও বরাম হাওর এবং তাহিরপুরের শনির হাওরসহ বেশ কিছু হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে মধ্যনগর উপজেলার ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরের জামখলা খালের বাঁধ ভেঙে প্রায় ২০০ একর জমির ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এটি মূল ফসলরক্ষা বাঁধ নয় বরং একটি গ্রামীণ রাস্তা যা পানির চাপে ভেঙেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত গড়ে ৪৪ দশমিক ৫০৯ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করলেও স্থানীয় কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা এই হিসাব মানতে নারাজ। হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রাজু আহমদের মতে, শিলাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বাঁধ ভাঙায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী খনন না করে কেবল মাটির বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষার কৌশলের কারণে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হাহাকার থামছে না। সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও গ্রামের কৃষক রইছ মিয়া জানান, ১৮ কিয়ার জমির মধ্যে মাত্র ৩ কিয়ারের ধান কাটতে পেরেছেন তিনি, বাকি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে জামালগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার কৃষকরাও শ্রমিক সংকট এবং জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। বৃষ্টির কারণে সংগৃহীত ধান শুকানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, ফসলরক্ষা বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সব প্রকল্পে পাহারার ব্যবস্থা করতে পিআইসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাওরে ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: