সিলেটে নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর অজ্ঞান অবস্থায় স্কুলছাত্রী উদ্ধার
সিলেটে নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর অজ্ঞান অবস্থায় স্কুলছাত্রী উদ্ধার
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম নাদিয়া বেগম (১৩)। সে জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পিতা আবু বক্কর এবং মাতা আনোয়ারা বেগম। তাদের স্থায়ী বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় হলেও বর্তমানে পরিবারসহ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের টাকির মোড়া এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল প্রায় ১০ টার দিকে নাদিয়া বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ে না পৌঁছানোয় এবং দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্ট দিয়ে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন। এর ২২ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেটের দক্ষিন সুরমার জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের ওপর অজ্ঞান অবস্থায় নাদিয়াকে দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের কাছে নাদিয়া জানায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জালালপুর বাজারের ব্রিজ পার হওয়ার পর তার আর কিছু মনে নেই। পরবর্তীতে দুইবার জ্ঞান ফিরলে সে নিজেকে একটি ঘরের ভেতরে বন্দি অবস্থায় দেখতে পায়। তবে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি দেখতে পারেনি বলে জানিয়েছে। এছাড়া তাকে চুপ থাকার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল বলেও সে উল্লেখ করেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর বাজার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে নিখোঁজ হওয়ার আগে নাদিয়াকে আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তবে ব্রিজ অতিক্রম করার পর তার গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরদিন বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অজ্ঞান অবস্থায় ফিরে আসার ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ দূর করতে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: