বাজেটকে লুণ্ঠনের দলিল আখ্যা দিয়ে সুনামগঞ্জে রাজপথে মেহনতি মানুষ

বাজেটকে লুণ্ঠনের দলিল আখ্যা দিয়ে সুনামগঞ্জে রাজপথে মেহনতি মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৫/০৬/২০২৬ ২০:৪১:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী, লুটেরা এবং সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষার দলিল’ আখ্যা দিয়ে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। প্রস্তাবিত এই বাজেটের প্রতিবাদে সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


​সংগঠনটির রায়পাড়াস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মুখ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি আলফাত উদ্দিন চত্বরে এসে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।


​জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের জেলা কমিটির সহসভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, স মিল শ্রমিক সংঘ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি সুরন্জিত দাস, সদর উপজেলা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক সংঘের সভাপতি আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনন্দ কর প্রমুখ।


​সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে মূলত সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। বিগত সময়ের ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের নীতি ও নির্দেশনায় এই বাজেট প্রণয়ন করেছে, যা মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দী পুঁজিপতি শ্রেণীর সর্বোচ্চ মুনাফা ও লুণ্ঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।


​বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকারের মালিকানায় কোনো শিল্প-কারখানা না থাকায় এবং কৃষিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় কোনো টেকসই ও উৎপাদনমুখী পরিকল্পনা না থাকায়, দেশের শিল্প ও কৃষি খাত থেকে সরকারের সরাসরি কোনো আয় নেই। ফলে রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যয় মেটাতে সম্পূর্ণভাবে জনগণের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।


​নেতৃবৃন্দ বাজেটের ঘাটতি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি মেটাতেই দেশী-বিদেশী উৎস থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ এবং অনুদান গ্রহণ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ এবং তার সুদের চূড়ান্ত মাশুল শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি জনগণকেই বহন করতে হবে।


​প্রস্তাবিত এই বাজেট দেশে চরম বেকারত্ব, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করবে উল্লেখ করে বক্তারা একে ‘গণবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সাধারণ জনগণকে তা বর্জনের আহ্বান জানান। একই সাথে, দেশের প্রচলিত স্বৈর্তান্ত্রিক ও আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।


প্রীতম দাস/ তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: