বিশ্বনাথে ভিডিওকলে মা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে ওমান প্রবাসীর মৃত্যু

বিশ্বনাথে ভিডিওকলে মা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে ওমান প্রবাসীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ

১৪/১২/২০২৫ ১৫:৫৩:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রবাস মানেই প্রিয়জনদের থেকে হাজার মাইলের দূরত্বে থাকা—অদৃশ্য সেই দূরত্ব, যা প্রতিদিনের জীবনে যন্ত্রণা হয়ে আসে। কিন্তু কখনও কখনও আধুনিক প্রযুক্তি মুহূর্তের জন্য কাছে এসে দেয়। তবে সেই কাছাকাছি হওয়ার মুহূর্তও কখনো কখনো হয়ে ওঠে চিরকাল মনে রাখার এক করুণ স্মৃতি।


ওমানের সালালাহ শহরে থাকা বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের নিহালের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে, পঞ্চাশোর্ধ আব্দুল মতিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দেশে থাকা বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের মাঝেই বারবার নিজের বুকের দিকে হাত উঠালেন। স্ত্রী ও মা বুঝতে পারলেন, তিনি তীব্র ব্যথায় কাঁপছেন। কিন্তু হাজার মাইল দূরের কারণে তারা কোনো সাহায্য করতে পারছিলেন না।


চোখের সামনেই সেই মর্মান্তিক দৃশ্য। পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, আর ঠিক সেই সময় ভিডিওকলের মধ্যেই মতিন নি'থ'র হয়ে পড়লেন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন, আর স্ক্রিনে ভেসে উঠল চিরন্তন নীরবতা।


মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে সাব্বির আহমদ বলেন, “আমার বাবা ওমানের সালালাহ শহরের সাদী এলাকায় থাকতেন। সেখানে তিনি কফিলের বিল্ডিং ও মাদ্রাসা দেখাশোনা করতেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।”


নিহালের নোয়াগাঁও গ্রামে নেমেছে গভীর শোক। প্রবাস থেকে তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা চলছে।


প্রবাসী জীবনের কঠিন বাস্তব, প্রিয়জনের কাছে থাকা আর দূরের যন্ত্রণা—এই সবই একসাথে মিশে গেল এক মুহূর্তে, যখন পরিবার শুধু স্ক্রিনের মধ্যেই শেষ দেখা পেল।

কামরুল

মন্তব্য করুন: