সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০১/০৭/২০২৬ ১৯:২৩:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি ভর্তুকির তালিকা প্রণয়নকে ঘিরে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন, আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের বোরো ফসল নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।


উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্যনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৬৫০ জন কৃষক বোরো আবাদ করেন। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ২ হাজার ২০০ জন, চামরদানী ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৮১ জন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ১ হাজার ৮৯০ জন এবং বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে ১ হাজার ৩০০ জনসহ মোট ৭ হাজার ২৮১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের কারণে যথাযথ মাঠ যাচাই ছাড়াই তালিকা করা হয়েছে। বিশেষ করে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে কৃষকদের নাম তালিকাভুক্ত করতে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যারা অর্থ দিতে পারেননি, তাদের নাম ভর্তুকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।


কুরির হাওরের কৃষক বাবর আলী বলেন, আমরা যারা প্রকৃত কৃষক, তাদের বাদ দিয়ে যাদের কৃষিজমিই নেই, তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়েছে। তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।


একই এলাকার কৃষক আলী আকবর বলেন, আবুল কাশেম মেম্বার আমার মামাতো ভাই। তিনি আমার নাম তালিকায় দিলেও আমার প্রতিবেশী কয়েকজন কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে টাকা দাবি করেছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তারা তালিকায় স্থান পাননি।


তবে অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবুল কাশেম।


তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার যা বলার, তা আগামীকাল ইউএনও স্যারের কাছেই বলব। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ভর্তুকির তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: