বাংলার আকাশে কালেমার পতাকা; ভারতে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অপপ্রচার!

বাংলার আকাশে কালেমার পতাকা; ভারতে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অপপ্রচার!

প্রথম ডেস্ক

০১/০৭/২০২৬ ১৮:৫৩:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাংলার আকাশে উড়ছে ‘কালেমা খচিত’ পতাকা। এই নিয়ে হঠাৎই সরগরম ভারত। ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো এটিকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে শুরু করেছে অপপ্রচার। 


ভারতের কলকাতা ভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘কলকাতা টিভি’-সহ বেশ কিছু গণমাধ্যম এটিকে বাংলাদেশে "জঙ্গি ছায়া" এবং "মৌলবাদী কট্টরপন্থীদের শক্তি প্রদর্শন" হিসেবে দাবি করে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


ফুটবল উন্মাদনার সাধারণ একটি অনুষঙ্গকে ঘিরে ভারতের এই আকস্মিক ‘মাথা ব্যথার’ আসল কারণ কী, তা নিয়ে এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ধর্মীয় চিন্তাবিদ এবং সাধারণ জনগণের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে।


রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ তরুণদের এই পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে ভারত ভিন্ন চোখে দেখার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে। 


বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি নতুন ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দিল্লির নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমগুলোর একটি বড় অংশ মনে করছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় আবেগ বৃদ্ধি পাওয়া মানেই তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং দেশের ওপর একটি মনগড়া ‘জঙ্গি’ তকমা সেঁটে দিতে এই ‘জঙ্গি জুজু’ বা ‘ইসলামী উগ্রবাদের’ ধোঁয়া তুলছে।


আইএস (I*S*I*S) বা আল-কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের পতাকায় কালো ও সাদা রঙের ওপর কালেমা ব্যবহার করে। ভারতীয় মিডিয়া গভীর ‘ইসলামোফোবিক’ (মুসলিমবিদ্বেষী) মানসিকতা থেকে শুধু রঙ এবং আরবি হরফের মিল দেখেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় আবেগকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলছে। অথচ তারা এটি ভুলে যাচ্ছে যে, সৌদি আরব ও আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকাসহ বিশ্বের বহু দেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক প্রতীকে এই একই কালেমা যুগের পর যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের জাতীয়তাবাদী বা ধর্মীয় জাগরণকে ভারত সর্বদা কট্টরপন্থা হিসেবে প্রচার করতে পছন্দ করে। এর মাধ্যমে তারা মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা দিতে চায় যে, বাংলাদেশে তাদের পছন্দের রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় না থাকলে দেশটিতে ‘উগ্রবাদ’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই মনগড়া ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত যৌক্তিক কিছু প্রশ্ন ও জবাব হাজির করেছেন:


"ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে আমরা যদি ভিনদেশি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়াতে পারি, তবে মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক সম্বলিত পতাকা ওড়ানো কীভাবে অপরাধ বা উগ্রবাদ হয়?"


বিজ্ঞ ওলামারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কালেমা ইসলামের মূল ভিত্তি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই পবিত্র বাণী তাদের পতাকায় ব্যবহার করলেই কালেমা বা তার পতাকা সন্ত্রাসীদের হয়ে যায় না। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগকে জঙ্গিবাদের সাথে মেলানো সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালার পরিপন্থী।


এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। তবে দেশের বাইরে থেকে কোনো দেশের গণমাধ্যম যেন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য বা 'ফেক নিউজ' ছড়িয়ে দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে যেকোনো ধরণের গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জনসাধারণ ও সচেতন মহলের জোর দাবি—ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোকে অবিলম্বে বাংলাদেশ ও ইসলাম ধর্মকে জড়িয়ে এই ধরনের বানোয়াট ও হেয়প্রতিপন্নকারী অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: