সিলেটে দলীয়ভাবে মূল্যায়নের অপেক্ষায় নারী নেত্রীরা

শীর্ষ পদে ‘ত্যাগী’ পুরুষদের জয়জয়কার

সিলেটে দলীয়ভাবে মূল্যায়নের অপেক্ষায় নারী নেত্রীরা

রোদ্দুর ‍রিফাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪/০৬/২০২৬ ০০:২২:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ত্যাগী ও পরীক্ষিত পুরুষ নেতাকর্মীরা একের পর এক পুরস্কৃত হচ্ছেন। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ দলটির শীর্ষস্থানীয় পুরুষ নেতাদের অনেকেই ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য, প্রশাসক, সিসিক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন। তবে পুরুষ সহকর্মীদের সমপরিমাণ ত্যাগ ও রাজপথের লড়াইয়ে অবদান থাকা সত্ত্বেও সিলেটের নারী নেত্রীরা এখনো কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।


বিগত দিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনেও সিলেটের একঝাঁক নারী নেত্রী রাজপথের প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দলটির অনেক নারী নেত্রী রয়েছেন যারা তাদের স্বামী কিংবা পিতার দলের প্রতি আজীবন ত্যাগ ও রাজনৈতিক সুনামকে ধারণ করে ভালো কোনো অবস্থানে থেকে দলের জন্য কাজ করতে চান।


দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পদের জন্য সিলেট অঞ্চলের একাধিক নারী নেত্রী জোর লবিং ও দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে সেখানে শেষ মুহূর্তে স্থান পান মৌলভীবাজারের সন্তান ব্যারিস্টার জহুরা আদিব। এর ফলে সিলেটের স্থানীয় আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত নারী নেত্রীরা এ ক্ষেত্রে এক প্রকার বঞ্চিতই থেকে গেছেন।


বর্তমানে সিলেটে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং স্বামী বা পিতার রাজনৈতিক খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে আসতে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নারী নেত্রীর নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে। 


ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী: বিএনপির সাবেক নীতিপ্রণেতা ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর কন্যা। আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত এই আইনজীবী দলের ত্যাগী রাজনীতির উত্তরসূরি হিসেবে নারী ক্ষমতায়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান।


জেবুন্নাহার সেলিম: জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী। মাঠের রাজনীতি ও তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় তিনি অন্যতম অগ্রগণ্য।


সামিয়া বেগম চৌধুরী: কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহসভাপতি ও এম.সি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবন থেকে রাজপথে সক্রিয় এই নেত্রী সিলেটে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।


রোজিনা নাসির: প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্রবধূ ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসের রহমানের সহধর্মিণী, যিনি পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করছেন।


সৈয়দা আদিবা হোসেন: সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এমবিএ ডিগ্রিধারী। বর্তমানে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার অঞ্চলের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।


সাবিনা খান পপি: যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা, যিনি দীর্ঘদিনের প্রবাস রাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান।


অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ: সাবেক প্যানেল মেয়র ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ১/১১ সহ দলটির দুঃসময়ে সিলেটের রাজপথের অন্যতম এক সাহসী ও বিপ্লবী কণ্ঠস্বর।


তৃণমূলের কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদের মধ্যে কেউ সংগঠনের পুরোনো ও পরীক্ষিত মুখ, কেউ নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, আবার কেউ পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারক। পুরুষ নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামের এই পরীক্ষিত নারী কর্মীদেরও যদি যোগ্য স্থানে দ্রুত মূল্যায়ন করা না হয়, তবে তা দলের তৃণমূলের নারী রাজনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা ও হতাশা তৈরি করতে পারে। তাই কেন্দ্রের চূড়ান্ত মূল্যায়নের দিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন সিলেটের নারী নেতৃত্ব।

রোদ্দুর রিফাত/ তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: