ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ে শর্ত, সুবিধায় মার্কিন কৃষিখাত
ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় নতুন এক শর্তভিত্তিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় অবমুক্ত অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য—বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম—কেনার জন্য। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এতে একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে, অন্যদিকে লাভবান হবেন মার্কিন কৃষকরাও।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ভ্যান্স বলেন, ইরানের অবমুক্ত সম্পদ যেন সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বদলে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় হয়, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথভাবে একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে। এই কাঠামোর আওতায় অবমুক্ত অর্থের ব্যবহার ও অনুমোদন প্রক্রিয়া ওয়াশিংটন ও দোহার যৌথ নজরদারিতে থাকবে।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এ বিষয়ে কাতারের সঙ্গে একটি যৌথ প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের মুক্ত করা সম্পদের বড় অংশ ব্যয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানিতে। এসব পণ্য মূলত ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবহার করা হবে।
এই উদ্যোগকে ‘ক্লাসিক ট্রাম্প ডিল’ হিসেবে উল্লেখ করে জেডি ভ্যান্স বলেন, এটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য লাভজনক হতে পারে। তার মতে, এর ফলে মার্কিন কৃষি খাতের রপ্তানি বাড়বে, আবার ইরানের সাধারণ জনগণও প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পাবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে তোলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ‘ভুল তথ্যভিত্তিক’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আলোচনার প্রতিটি ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সম্প্রতি ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভ্যান্সের দাবি, এটি ওয়াশিংটনের একক কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো সাম্প্রতিক ইরান-সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার কারণে তৈরি জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইরানের প্রতি যেকোনো ধরনের ছাড় বা নমনীয়তা প্রদানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে চান এবং সে লক্ষ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনা প্রত্যাশিত ফল না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অন্য বিকল্পও খোলা রয়েছে। যদিও আপাতত ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই এগোতে চায়।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: