পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীসহ সকল নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ রকম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছুয়েও ফেলতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল গুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সোমবার (২২ জুন) বলেন, “ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। এরকম বৃষ্টিপাত হলে স্বল্প মেয়াদী বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম ছিলো। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানিও বেড়েছে। সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীদের যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে পাহাড়ি ঢল থামলে সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে।”
দেশের অর্থনীতিকে বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।”
রবিবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে জ্বালানি খাত। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শিল্প ও বিনিয়োগকে প্রভাবিত করছে। তবে, এসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিগত বছরগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি আমদানি করা গ্যাস সংরক্ষণ ও সরবরাহ অবকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের ফল পেতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগবে।”
তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এ তিন খাতেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করছে।”
সংলাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে আলোচনা হলে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে একটি বিশেষ ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, “ত্রৈমাসিক পর্যালোচনার পরিবর্তে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করছি, যেখানে প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি দৈনিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং জবাবদিহি বাড়বে।”
বাজেটে নিয়মকানুন সহজীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো নাগরিক বা উদ্যোক্তা সরকারি নিয়মকানুন বাস্তবায়নে বাধা বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। টাস্কফোর্স এসব অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
রপ্তানি ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও করের চাপ কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এখন তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতের উদ্যোক্তারাও সহজ শর্তে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাবেন।”
সংলাপে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের ব্যবহার সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।”
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ঋণ এখন অনেকের জন্য বিনিয়োগ নয়, বরং টিকে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং শিক্ষার মান—এই তিনটিকে অর্থনীতির প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, “দেশের মোট সম্পদের প্রায় অর্ধেক এখন মাত্র ১ শতাংশ মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত। এই বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার কর নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে।”
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদের হার বর্তমানে শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বিনিয়োগের চেয়ে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি।”
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন।
রোদ্দুর রিফাত / সজল
মন্তব্য করুন: