সুনামগঞ্জে বন্যার পদধ্বনি , নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় গত ২৪ ঘন্টায় সুরমা নদীর পানি ৬৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৬ ঘন্টায় ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে তবে বিকাল ৩টার পানির হিসাব অনুযায়ী এখনও সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান যদি পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশের উজানে উল্লেখ যোগ্য বৃষ্টিপাত মাউসিনরাম (মেঘালয়) ৫২৬.o মাওকিয়াত ৩৮৫.o চেরাপুঞ্জি ৩৩২.o কোচবিহার( পশ্চিম বঙ্গ )২২২.o জলপাইগুড়ি ১৪৩.o মাওফলাং ১৩৪.o পাসিঘাট অরুণাচল(পশ্চিম বঙ্গ) ১১৭.o খিলহারিয়াত( মেঘালয়) এবং সুনামগঞ্জে ৮৭.o বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ- বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুর সড়কের দুর্গাপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাবার পর নৌকা দিয়ে লোকজন যাতায়াত করছেন। শক্তিয়ার খলা বাজারের পাশের সড়কের কিছু স্থানে পানি উঠেছে। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার চারাগাঁও মাঝহাটি,জঙ্গল বাড়ি সংসার পাড় ও বড়ছড়া বাজারের আশপাশের সড়ক প্লাবিত হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গল কাটা বাজারের কিছু কিছু জায়গা বাজার প্লাবিত। ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভিতরে ও পানি প্রবেশ করেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীর দু কূল উপচে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। সুরমা ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের কয়েক টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। কিছু সব্জি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষী জামাল উদ্দিন,শাহ আলম,নুরুল ইসলাম,শফিকুল ইসলাম ও লিটন মিয়া জানান তাদের পুকুরের মাছ প্রবল পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। জেলা মৎস্য অফিসার আল মিনার নুর বলেন আমাদের কাছে ক্ষয় ক্ষতির হিসাব এখনও আসেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান সব্জি ক্ষতির হিসাব ও এখনও পাইনি। দোয়ারাবাজার উপজেলার অনেক গ্রামীন সড়ক প্লাবিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ও এলাকাবাসী চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এরইমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান জানান আমরা আগে থেকেই দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে বন্যার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। খাবারের উপ বরাদ্দ ও সেচ্চাসেবক টীম গঠন করা হয়েছে। সকল ইউএনও দের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: