সুনামগঞ্জে দ্রুত ধান কাটায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে দ্রুত ধান কাটায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৭/০৪/২০২৬ ১৬:৩৭:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের আকাশজুড়ে এখন ঘন কালো মেঘের আনাগোনা। সোমবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ ও মুহুর্মুহু বজ্রপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে উজানের পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। প্রকৃতি ও পরিস্থিতির এই বৈরিতায় জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমির সোনালী বোরো ধান নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন হাওরপারের কৃষকরা। যে কোনো সময় আকস্মিক ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৫২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু অসময়ে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ যেন কৃষকের স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ হাওরে এখনো ধান পুরোপুরি পাকেনি।


সদর উপজেলার দেখার হাওরের কৃষক হিরা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “যেভাবে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে, হাওরে যাওয়াই এখন প্রাণঘাতী। ভয় আর শঙ্কা মাথায় নিয়েই ধান কাটার চেষ্টা করছি। কিন্তু ধান শুকানোর সুযোগ নেই, মাড়াই করার জায়গাও নেই। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।”


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন সুনামগঞ্জসহ উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, টানা বৃষ্টিতে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের মাটি নরম হয়ে গেছে। পাউবো এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করলেও উজানের ঢলের চাপ এখন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, ধান কাটার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি যেন কৃষকরা দ্রুত ধান কেটে নেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। কৃষকরা জানাচ্ছেন, হাওরে পানি জমে যাওয়ায় অনেক স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। আবার শ্রমিক সংকট এবং রোদের অভাবে কাটা ধান মাড়াই ও শুকানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।


চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে ধান পাকতে দেরি হওয়ায় এখন শেষ সময়ে এসে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছে হাওরাঞ্চল।


সব মিলিয়ে, সুনামগঞ্জের হাওরপারের মানুষের চোখ এখন আকাশের দিকে। তাদের একটাই প্রার্থনা—ঢল আর বৃষ্টির দাপটে যেন সারা বছরের সম্বলটুকু হারিয়ে না যায়।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad