প্রস্তুত জনসভামঞ্চ; প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্ষায় মৌলভীবাজার
আকাশের মেঘলা ভাঙা বৃষ্টি, নাকি চোখের কোণের আনন্দের জল—তা আলাদা করা দায়। হাতের চিমটি কাটা ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার রোজকার চেনা ব্যস্ততা আজ থমকে গেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার ব্যাকুলতায় আজ বাগানের কাজ বন্ধ রেখে রাজপথে নেমে এসেছেন সিলেটের অবহেলিত চা শ্রমিকরা। শত কষ্টের মাঝেও তাদের মুখে আজ চওড়া হাসি, আর বুকে ধারণ করা পরম শ্রদ্ধার ‘বরণডালা’।
আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সফরে সিলেটে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সিলেটে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক না থাকলেও তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সরাসরি মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আর প্রিয় নেতার এই যাত্রাপথকে ঘিরেই পুরো সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ।
প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছ থেকে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি ভাগ্যবঞ্চিত চা শ্রমিকরা। সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মালনিছড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানের শত শত শ্রমিক ফুল ও বরণডালা হাতে নিয়ে বিমানবন্দরের সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন।
হাতে ফুলের ডালি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মালনিছড়া বাগানের প্রবীণ চা শ্রমিক মুরালি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "দেশের বড় নেতা আইছে সিলেট। অনেক দিন অইলো তারে সামনাসামনি দেখি না। আজকে কাজ বন্ধ রাখছি বাবা, হুজুররে (নেতাকে) একনজর দেখমু আর হাত তুলিয়া দোয়া করমু। এই ফুলগুলা তার লাগিই আনছি।" মুরালির মতো এমন শত শত শ্রমিকের চোখে-মুখে আজ শুধুই প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেওয়ার আকুলতা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজারে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল জনসভার জন্য দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। আজ এই ঐতিহাসিক মাঠে বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও জনসভাকে সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় আয়োজকরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। সভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন এবং চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনুষ্ঠানস্থলে ঐতিহাসিক জনসমাগমের প্রত্যাশা
সফরসূচি অনুযায়ী, সিলেট বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন ও কার্ড বিতরণ করবেন। এরপর তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন। সফর শেষে আজ সন্ধ্যা পৌনে
৬টায় তিনি মৌলভীবাজার থেকে পুনরায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং রাত সাড়ে ৮টায় আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যথাযথ মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানিয়েছি। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো, প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া চা শ্রমিকরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বরণডালা হাতে রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং মৌলভীবাজারে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই এক অনন্য আবেগের সৃষ্টি করেছে।"
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: