শাবিপ্রবিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা ব্যবস্থা
Led Bottom Ad

১২ লাখ টাকার প্রকল্প এখন ‘সাদা হাতি’

শাবিপ্রবিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা ব্যবস্থা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৯/০৪/২০২৬ ১৬:০২:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের লক্ষে গৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ আর সদিচ্ছার অভাবে বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই আধুনিক প্রযুক্তি সেবাটি কোনো কাজে না আসায় নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে ডিভাইসগুলো স্থাপন করা হলেও বর্তমানে সেগুলো খুলে ফেলায় প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সময় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। প্রশাসনিক ভবনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে সফল হলেও নীতিমালার অভাবে একাডেমিক ভবনগুলোতে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রহস্যজনকভাবে ডিভাইসগুলো খুলে নেওয়া হয়। বর্তমান রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের বর্তমান পরিচালক ড. রেজওয়ান আহমেদ জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী নীতিমালায় এই ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না করায় এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ডিভাইসগুলো খুলে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁর সেন্টারে কর্মরতদের সময় পর্যবেক্ষণে এই সিস্টেম চালু আছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে সাবেক কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব ছিল প্রশাসনের, কিন্তু তাদের অনীহায় এটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, "পূর্বে অনেকে এটি ব্যবহার না করায় ডিভাইসগুলো নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়াই সবাই সময়মতো অফিস করছেন।" তবে বিশাল অংকের টাকা খরচ করার পর কেন তা কার্যকর করা গেল না, সেই প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে হলে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নীতিমালার প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad