ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের নিহত ১২ তরুণের বাড়িতে স্বজনদের করুণ আহাজারি
উন্নত জীবনের মোহে অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১২ জন তরুণ। গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি নৌকা সাগরে পথ হারিয়ে টানা ছয় দিন ভেসে থাকার পর খাদ্য ও পানির অভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ১৮ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, যাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো জেলায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে; স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে তারাপাশা, কবিরনগর ও টিয়ারগাঁওসহ সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর আকাশ-বাতাস।
দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল গণি তাঁর ছেলে সাজিদুর রহমানের (৩০) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাজিদুর গত ১৫ জানুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন এবং শেষবার পরিবারের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। একই গ্রামের নুরুজ্জামান ময়না (২৫) এবং রাজানগর ইউনিয়নের মুজিবুর রহমানও একই নৌকায় প্রাণ হারিয়েছেন। নুরুজ্জামানের ভাই আক্তারুজ্জামান জানান, দালালরা নিরাপদ যাত্রার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে খাবার ও পানির অভাবেই তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, সচেতনতার উদাহরণ তৈরি করেছেন স্থানীয় লিটন মিয়া, যিনি ঝুঁকি বুঝতে পেরে নিজের ছেলেকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে এনেছিলেন।
নিহতদের তালিকায় রয়েছেন—দিরাইয়ের নুরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া, মুজিবুর রহমান, তায়েফ ও সোহান। জগন্নাথপুরের সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী এবং দোয়ারাবাজারের আবু ফাহিম। স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দালালদের প্রলোভনে পড়ে প্রতি বছর অসংখ্য তরুণ এভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। তারা এই মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: