সচ্ছল পরিবারেও বিদেশের মোহ
ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন দিরাইয়ের মুজিবুর রহমান
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সচ্ছল ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হয়েও দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন মুজিবুর রহমান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে গ্রিসের কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর থেকে নিহতের গ্রাম রনারচরে শোকের পাশাপাশি এক ধরনের বিস্ময় বিরাজ করছে। ব্যবসায়ী ও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মুজিবুর রহমানের পরিবারের কোনো অভাব ছিল না, তবুও কেন তিনি এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিলেন—সেই প্রশ্ন এখন গ্রামবাসীর মুখে মুখে। রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুরের এক সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুজিবুরের বড় ভাই এমরান হোসেন দীর্ঘদিন লন্ডনে ছিলেন এবং বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। অন্য দুই ভাই একলিম হোসেন ও ফয়জুর রহমান ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বড় ভাইয়েরা ইউরোপে থাকায় মুজিবুর নিজেও সেখানে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি কাউকে স্পষ্টভাবে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন এবং পরে সৌদি আরব থেকে ফোন করে জানান যে তিনি ইউরোপের পথে রওনা হয়েছেন। স্বজনদের দাবি, মুজিবুর চাইলে অনায়াসেই বৈধ পথে ভিসা নিয়ে বিদেশে যেতে পারতেন, কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে যাওয়ার সিদ্ধান্তই তাঁর জন্য কাল হয়েছে।
মুজিবুর রহমানের বড় ভাই লন্ডন ফেরত এমরান হোসেন বলেন, "আমার দুই ভাই ও দুই ছেলে বিদেশে থাকে, বাড়িতে থাকার মতো লোক নেই। মুজিবুর কাউকে কিছু না জানিয়ে বিদেশে চলে যায়। গতকাল হঠাৎ খবর পাই আমার ভাই আর নেই। তার কী দরকার ছিল এভাবে বিদেশ যাওয়ার।"
প্রবীণ প্রতিবেশী তালুকদার ও চাচাতো ভাই লোকমান হোসেন এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মুজিবুর এলাকার একজন সজ্জন মানুষ ছিলেন। তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো রাজানগর ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: