ধর্মপাশায় সরকারি জলমহাল থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট

নেতৃত্বে বিএনপি নেতা

ধর্মপাশায় সরকারি জলমহাল থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৫/০১/২০২৬ ১৯:১৩:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ‘আতলা’ নামক একটি সরকারি জলমহাল থেকে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত এক মাস ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে এই হরিলুট চালাচ্ছে।

​অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আফজাল হোসেন স্বপনের নেতৃত্বে শাহজাহান মিয়া, এমরান মিয়া ও জুনায়েদ মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে এই চক্রটি জলমহাল থেকে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহাপুর উদ্দীপন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড জলমহালটি ইজারা পেলেও ১৪৩২ বঙ্গাব্দের খাজনা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসন জলমহালটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। গত ৫ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জলমহালটি সরকারের দখলে নেয় এবং তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের ২-৩ দিন পর থেকেই প্রভাবশালী চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়। প্রতি রাতে গগনবেড়, খনা ও ঝাপ জাল দিয়ে ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে তারা মাছ ধরছে। স্থানীয়রা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

​অভিযুক্ত এমরান মিয়া মাছ ধরার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, তারা তাদের ইজারাকৃত জলমহাল থেকেই মাছ ধরছেন। তবে বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন স্বপন ও সমিতির সভাপতি শাহজাহান মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “জলমহালটি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাতের আঁধারে কেউ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, “আমরা শুনেছি একটি চক্র রাতের আঁধারে মাছ নিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে আটক করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন: