ডিলারশিপ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
শাল্লায় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাও ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে চাল বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়ে পরিচিত ডিলার সালাম মিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে শুধু নীতিমালা লঙ্ঘনই হয়নি—ডিলারশিপ অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড়।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা–২০২৪ অনুযায়ী, ডিলারের নিজস্ব বা ভাড়াকৃত দোকান থাকতে হবে, যেখানে থাকতে হবে কমপক্ষে ১৫ মে. টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সুব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত সরু ঘরে সর্বোচ্চ ৫-৬ মে. টন চাল রাখার জায়গা মিলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে সাবেক মেম্বার কালাম মিয়া, ইউনূস মিয়া সহ কয়েকজনের সহযোগিতায় রাতারাতি সরকারি জমিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে ঘর তোলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, এ অনুমোদনের পেছনে “বড় ধরনের অনিয়ম” রয়েছে, যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দাউদপুর বাজার কমিটির সহ-সভাপতি প্রেমতুষ দাসের অভিযোগ আরও বেদনাদায়ক। তিনি জানান, যেখানে অবৈধ ঘরটি স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে আগে গ্রামের শিব (বেন্নাথ) গাছ ছিল—যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে প্রসাদ বিতরণ করা হতো। ডিলার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাকি আশ্বাস দিয়েছিলেন, “কিছু দিনের জন্যই শুধু চাল বিতরণ হবে, পরে ভেঙে ফেলা হবে।” কিন্তু এখন যা চলছে—তা স্পষ্টতই দখল।
এক ইউপি সদস্য জানান, “হঠাৎ করেই সালামসহ ২০-৪০ জন লোক এসে পরিষদের জায়গায় পিলার তুলে ঘর করে। জিজ্ঞেস করলে বলে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণের জন্য হচ্ছে। ইউএনও সাহেবও নাকি জানেন!”
অবশ্য আটগাও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন্-নোমান স্থাপনাটিকে অবৈধ বলেই স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, “জায়গাটি সরকারি... এটি অবৈধ। তবে ডিলারের বাজারে জায়গা কম থাকায় এখানে চাল বিতরণ করেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল বলছে—সরকারি ভূমি দখল, নীতিমালা ভঙ্গ এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো দরিদ্র মানুষের জীবন–জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অনিয়ম—এ সবই গুরুতর অপরাধ। তাদের দাবি- এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন,ডিলারের নথি–দলিল যাচাই,স্থাপনার বৈধতা পর্যালোচনা এগুলো অবিলম্বে প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে—ডিলারশিপ বাতিল, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা—এগুলোই হতে পারে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।
পি ডি এস
মন্তব্য করুন: