আরও ৫ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
সিলেটে পানি বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারায়
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী ৩ দিন সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং আগামী ৫ দিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে তা সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১১.৬০ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ১১.৯৬ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১২.০৮ মিটারে পৌঁছায়। (বিপদসীমা: ১২.৭৫ মিটার)। সিলেট পয়েন্টে ছিল সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯.৪৩ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ৯.৫৮ মিটার এবং সন্ধ্যায় সামান্য কমে ৯.৫৫ মিটারে অবস্থান করে। (বিপদসীমা: ১০.৮০ মিটার)।
কুশিয়ারা নদীতে আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৪২ মিটার, সকাল ৯টায় তা বেড়ে ১৩.৭৬ মিটার এবং সন্ধ্যায় কিছুটা কমে ১৩.২০ মিটারে দাঁড়ায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট: এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.০৮ মিটার।
গত ৩৬ ঘণ্টায় সিলেটে মোট ৬৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৪ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৬.৭ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ১৭.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত: জাফলং: ১৭৩ মিমি, লালাখাল: ১৩২ মিমি,লাটু: ৮৩ মিমি,শেওলা: ৭০ মিমি,সিলেট শহর: ৬৪ মিমি,চেরাপুঞ্জি (ভারত): ৬৭ মিমি
সিলেট অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২% এবং সন্ধ্যায় তা কমে দাঁড়ায় ৮০%-এ।
আগামী দিনের সতর্কতা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৩ দিন সিলেট বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী এবং পরবর্তী ২ দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও ধলাই নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও সাময়িক প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
মীর্জা ইকবাল/ তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: