সুনামগঞ্জ-২: সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তুমুল আলোচনা

সুনামগঞ্জ-২: সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৪/১১/২০২৫ ১৬:২০:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ-২—দিরাই ও শাল্লা নিয়ে গঠিত এই আসনটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বরাবরই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রচলিত আছে, “নির্বাচনের উত্তাপ দেখতে চাইলে দিরাই-শাল্লা চলে যান।” কারণ এই আসন শুধু রাজনীতি নয়; এটি লড়াই, বিশ্বাস, মানুষের আবেগ আর দুই প্রজন্মের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।


একদিকে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অন্যদিকে বিএনপির হেভিওয়েট নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বিপাক্ষিক প্রভাব দিরাই–শাল্লার রাজনীতিকে ভাগ করে রেখেছে দুই শক্তিতে।


কিন্তু এখন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর নেই, আওয়ামী লীগের সক্রিয়তাও নেই আগের মতো। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও নতুন সমীকরণে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দিরাই-শাল্লার মাঠ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে এলাকায় চলছে টানটান আলোচনা।


বিএনপির শক্ত অবস্থান: নাছির চৌধুরীর প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা

এ আসনে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৯৯৬ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হারিয়ে সংসদ সদস্য—দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জিত জনপ্রিয়তা আজও অটুট। কিছুদিন রাজনৈতিক মাঠে অনিয়মিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দিরাই–শাল্লায় একাধিক সভা–সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি আবারও সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ব্যাংককে চিকিৎসাধীন, শীঘ্রই দেশে ফিরে প্রচারণায় নামবেন বলেও জানিয়েছেন। তার আত্মবিশ্বাসী ভাষ্য—“বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ বিজয়ী হবেই। আমি মানুষের সেবা করতে চাই।”


তার পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান (পাবেল) চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন জাবেদ, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুল মাজিদ তাহেরও সক্রিয় রয়েছেন। তারা নাছির চৌধুরীর পাশে থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।


এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী—যিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে এই আসনের এমপি ছিলেন—তিনিও মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


অন্যান্য দলীয় সমীকরণ: জোট, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রামীণ গণসংযোগ

জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে—এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি প্রতিনিয়ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে গণসংযোগ করছেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র তরফ থেকে অনিক রায় প্রার্থী হিসেবে নাম পেয়েছেন; যদিও এখনও তেমন প্রচারণা দেখা যায়নি।


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তাদের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদকে প্রার্থী করেছে। তিনি এলাকায় পরিচিত এবং বিএনপির সঙ্গে যৌথ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।


আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সমীকরণ

এ আসনে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী না থাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। আলোচনায় রয়েছে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেন, এছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুলও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম আসছে।


চূড়ান্ত প্রশ্ন—বিএনপির প্রার্থী কে?

দিরাই-শাল্লার রাজনৈতিক মাঠ এখন একটাই প্রশ্নকে ঘিরে সরগরম—জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী শিশির মনিরের মোকাবিলায় বিএনপি কাকে সামনে আনবে? স্বাধীনতার পরে উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছাড়া অন্যদের জয়ের রেকর্ড তেমন নেই। তাই আগামী নির্বাচনে কে হবেন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ—তা নিয়ে এখনো চলছে জোর আলোচনা, জল্পনা আর তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: