হবিগঞ্জ–১ আসনে ধানের শীষে তিন মুখ, এক প্রতীক্ষা

কার হাতে যাবে বিএনপির প্রতীক?

হবিগঞ্জ–১ আসনে ধানের শীষে তিন মুখ, এক প্রতীক্ষা

১০/১১/২০২৫ ১৩:৩৫:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

নবীগঞ্জ-বাহুবলের মাঠে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—ধানের শীষ কার হাতে যাবে? গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে হাটবাজার—যেদিকে তাকানো যায়, সেখানেই চলছে জল্পনা-কল্পনা, ফিসফাস, আর রাজনৈতিক আলোচনা।


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে এখন উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো নাম ঘোষণা না করায় সম্ভাব্য তিন প্রার্থীর সমর্থকরা নিজ নিজ প্রচারণা ও অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


সুজাত মিয়া—পুরোনো সৈনিকের প্রত্যাবর্তনের আশা

দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় শীর্ষে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই রাজনীতিক নবীগঞ্জ ও বাহুবলে পরিচিত ‘দলীয় অভিভাবক’ হিসেবে। তাঁর সমর্থকরা বলছেন, “জনতার ভালোবাসা এখনো সুজাত ভাইয়ের সঙ্গে আছে। তিনি ফিরলে দল সংগঠিত হবে।” দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রচুর যোগাযোগ রাখছেন।


ড. রেজা কিবরিয়া—বংশের ঐতিহ্য আর রাজনীতির নতুন পরিসর

অন্যদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াও রয়েছেন আলোচনায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে লড়েছিলেন। স্থানীয়দের অনেকে বলেন, “ড. রেজা কিবরিয়া শিক্ষিত, ভদ্র ও নীতিবান—তাঁর রাজনীতি নতুন প্রজন্মের আশা জাগায়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিএনপি যদি জোটগত সমীকরণে যায়, তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


ছাবির আহমদ চৌধুরী—তৃণমূলের আস্থা ও কর্মীর ভরসা

তৃণমূলের কর্মীদের মুখে এখন আরেক নাম বারবার শোনা যাচ্ছে—আলহাজ ছাবির আহমদ চৌধুরী। নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এই নেতা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন, চায়ের দোকানে বসে শুনছেন মানুষের কথা, দলের কর্মীদের উৎসাহ দিচ্ছেন।

তাঁর এক অনুসারী বলেন, “ছাবির ভাই মাঠে থাকেন, মানুষ তাঁকে কাছে পায়—এইটাই তাঁর শক্তি।”


এক আসন, তিন সম্ভাবনা—একই প্রতীক্ষা

এই তিনজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবীগঞ্জ–বাহুবলের রাজনীতি এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দলীয় কার্যালয়, বাজারের মোড় কিংবা স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ—সবখানেই আলোচনা, “কাকে বেছে নেবে বিএনপি?”


এক প্রবীণ নেতা বলেন, “এ আসন শুধু রাজনীতির নয়, অনুভূতির আসন। যিনি মনোনয়ন পাবেন, তাঁকে নিতে হবে কর্মীদের আশা–ভরসার ভার।”


সবাই এখন অপেক্ষায়—বিএনপির চূড়ান্ত ঘোষণার। ধানের শীষ কার হাতে যাবে, সেই ঘোষণাই নির্ধারণ করবে নবীগঞ্জ–বাহুবলের রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়।

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন: